৭০ এর মতোই নৌকার গণজোয়ার ধরে রাখতে হবে: হানিফ


আপডেটের সময়ঃ জানুয়ারি ২০, ২০২১


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এম.পি. বলেছেন, নৌকার পক্ষে ৭০ সাল থেকে যে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এতে আমাদের সকলের জন্যই একটি নির্ভরশীল জয়যাত্রা সূচিত হবে। সকলকে মনে রাখতে হবে, কোন অপশক্তি যেন দল ও সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে।

বুধবার (২০ জানুয়ারী) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সংগঠনের দারুল ফজল মার্কেটস্থ কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় এই কথাগুলো বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। তারপরও আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি। বরং গ্রীক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো ছাইভস্ম থেকে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ কখনো পিছু হটতে জানে না। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, পেট্রোল বোমায় মানুষ পুঁড়িয়েছে, ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র এনেছে, কীটনাশক ঔষধ আনতে গিয়ে ১৭ জন কৃষককে গুলি করে খুন করেছে, বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে এবং হাওয়া ভবনের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতে যারা দেশকে ধ্বংস করেছে তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না। শেখ হাসিনা ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন- এটাই বীর বাঙালীর মহত্তম অর্জন।  তিনি সাংগঠনিক বক্তব্যে বলেন, দলের ভেতরে কোন বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। যারা এসব করছেন তারা সাবধান হয়ে যান, ভবিষ্যতে দলে আপনাদের স্থান হবে না।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম কামাল হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রয়াত জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র পদে বিজয়ী হয়ে চট্টগ্রামের স্বপ্ন পূরণে যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছিলেন তা একে একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আমাদের ও আপনাদের জানা উচিত বঙ্গবন্ধুর তনয়া শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম অন্তপ্রাণ। কারণ এই চট্টগ্রাম মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ঠিকানা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছেন তার সাথে সকলকেই একাত্ত হতে হবে। এই দায়িত্বটি নেতাকর্মীদের একাগ্রতার সাথে পালন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া বেগম বলেছেন, আওয়ামী লীগ অনেক চরাই-উৎড়াই পেরিয়ে দলকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছেন শেখ হাসিনা, তা যেন শুধুমাত্র গুটি কয়েক সুবিধাভোগী ব্যর্থ করে দিতে না পারে সে দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, আমাদের সকলের লক্ষ্য একটাই- আগামী ২৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা। এজন্য আমাদের কাছে প্রতিটি মুহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটা মুহুর্তও অপচয় করা যাবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ অনেক প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়র নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ, আমি বিশ্বাস করি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মহানগর আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।

সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দলের সাংগঠনিক নির্দেশনা এবং বিধি-বিধান প্রত্যেককে মেনে চলতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কেউ সামান্য ছাড় পাবে না।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এম.পি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ ছালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. সুনীল কুমার সরকার, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমেদ, জালাল উদ্দীন ইকবাল, মানষ রক্ষিত, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, জোবাইরা নার্গিস খান, দিদারুল আলম চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, আবু তাহের, ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, শহীদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব সিআইপি, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন, চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল করিম চৌধুরী, সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বাকের ভূঁইয়া, পটিয়া পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ, হাট হাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব, বাশঁখালী উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী গালিব, বোয়ালখালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধরীসহ মহানগর আওয়ামী লীগ কার্য্যকরী নির্বাহী কমিটির সদস্য, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়কবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক কার্য্যনির্বাহী সদস্য ও কাউন্সিলর তারেক সোলায়মানের মৃত্যুতে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।