৪১ ওয়ার্ডের দায়িত্বে ৩ কর্মকর্তা: জন্ম-মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদপত্র সংগ্রহে ভোগান্তি


আপডেটের সময়ঃ আগস্ট ২৪, ২০২০


চট্টগ্রামে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্ম-মৃত্যু এবং ওয়ারিশ সনদপত্র সংগ্রহের মত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাতে পেতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরের ৪১ ওয়ার্ডের সবিচসহ বিভিন্ন পদের একযোগে ৪৮ জনকে বদলি করার পর থেকে এমন জটিলতা দেখা দিয়েছে। অবশ্যই জনদুর্ভোগ লাঘবে তিনজন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে ৪১টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ যাবতীয় কাজ তদারকি এবং জন্ম ও মত্যু সনদে সই করার দায়িত্ব । চসিকের নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব শেষে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও কাউন্সিলরদের পরিবর্তে ‘সহায়ক পরিষদ’ গঠিত হয়নি এখনও। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে তিনজন কর্মকর্তাকে ৪১টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ যাবতীয় কাজ তদারকি এবং জন্ম ও মৃত্যু সনদে সই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২৯-৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরীকে, ১৫-২৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াকে এবং ১-১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলমকে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. সামসুদ্দোহা বলেন, চসিক প্রশাসককে সহযোগিতার জন্য সহায়ক পরিষদ এখনো গঠিত হয়নি। কিন্তু জনদুর্ভোগ লাঘবে মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসকের নির্দেশনায় তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পরিষদের মেয়াদ গত ৫ আগস্ট শেষ হয়েছে। ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচিত কাউন্সিলর দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ যাবতীয় কাজ তদারকি এবং জন্ম ও মৃত্যু সনদে (জন্ম ও মত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে) সই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে জন্ম-মৃত্যু এবং ওয়ারিশ সনদপত্র সংগ্রহে তাদের নানা প্রকারের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগে বাসিন্দারা নিজের ওয়ার্ড কার্যালয়ে গিয়ে এসব সনদ সংগ্রহ করতে পারলেও ৪১ ওয়ার্ডে তিনজনকে দায়িত্ব দেয়ার পর দুর দুরান্ত থেকে কর্পোরেশন কার্যালয়ে এসে এসব সনদ স্বাক্ষর করাচ্ছে। অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে এসব সনদগুলো না পেয়ে বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

জানা গেছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা। বিশেষ করে পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারী, বেসরকারী বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ভোটার তালিকা প্রনয়ন,জমি রেজিষ্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি,  গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি,  ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি, ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি, বাড়ির নক্সা অনুমোদন প্রাপ্তি,  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন কারণে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাসিন্দাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তা সংগ্রহে।

খোঁজ জানা গেছে, আগে স্বাভাবিক নিয়মে স্থানীয় ৪১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমেই এসব কাগজপত্র  সংগ্রহ করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ৪১ জন কাউন্সিলরের বদলে এই কাজ সম্পাদন করবেন চসিকের মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্ম-মৃত্যু এবং ওয়ারিশ সনদপত্রসহ আলোকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মত  দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেমে আসছে ধীরগতি।

তবে চসিক কর্মকর্তারা জানান, ৪১টি ওয়ার্ড বাসিন্দাদের এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের গতিশীলতা ধরে রাখতে বিশেষ নজর রয়েছে। চসিকের সেবার মান ও কাজের গতি ধরে রাখতে ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব বণ্টনে আরও বিন্যাস ঘটানো হবে। চসিক প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ জনের জন্য যদি ৪১টি ওয়ার্ডের কাজ চাপ হয়ে যায়। তাহলে কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে, চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপসচিব) মুফিদুল আলম বলেন, কাজের গতিশীলতা ধরে রাখতে স্থানীয় ওয়ার্ড সচিবরা যেন আমাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতে পারে তার জন্য এলাউন্সমেন্টের কথা ভাবা হচ্ছে। তাছাড়া দায়িত্ব প্রাপ্ত তিনজন কর্মকর্তা কাজের ফাঁকে ফাঁকে ভিজিট করছেন। তিনি জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো যথা নিয়মে খোলা রাখা হলে তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন স্থানীয় ওয়ার্ড সচিবরা। সেই সাথে ওয়ার্ড সচিবদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা ইন্টারনাল (অভ্যন্তরীণ) সোর্সের মাধ্যমে যাচাই করছেন এই ৪১ ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সবমিলিয়ে বলা চলে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় ওয়ার্ড সচিবদের সাথে মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দৃঢ় সেতুবন্ধনের উপর জোর আরোপ করার কথা ভাবছে চসিক।

চসিক কর্মকর্তারা বলেছেন, চসিকের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে ওয়ার্ডগুলোর বাসিন্দাদের ভোগান্তির লাঘবে স্থানীয় ওয়ার্ড সচিবদের সাথে দায়িতপ্রাপ্ত চসিকের তিন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলো ভিজিট করছেন দায়িতপ্রাপ্ত ৩ জন- চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া ও চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী।

চসিক প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনে সহায়ক পরিষদের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে কয়েকদিন আগে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে- সহায়ক পরিষদ গঠন নয়, চসিকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই কাজ চালিয়ে নিতে। তাই চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় তিন কর্মকর্তাকে ৪১ ওয়ার্ডের  দায়িত্বভার বণ্টনের একটি অফিস আদেশ জারি করেছেন। তিনি বলেন, ওয়ার্ড সচিব জন্ম সনদ, মত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাচাই শেষ করে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বরাবরে পাঠাবেন। এখান থেকে স্বাক্ষর হয়ে ফের ওয়ার্ড কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জানা যায়, চসিকের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরের মেয়াদ শেষ হয় গত ৫ অগাস্ট। সরকার ৬ আগস্ট চসিকে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তবে সহায়ক পরিষদ গঠন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এ নিয়ে ওয়ার্ড কার্যালয়ে নাগরিক কর্মকা-ে স্থবিরতা দেখা দেয়। বিশেষত-জন্ম-মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তি নিয়ে বিপাকে পড়েন নগরবাসী। এরই মধ্যে সদ্য সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কোনো রকম দাপ্তরিক কাজ না করতে চসিক থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।