রেলওেয়ে পূর্বাঞ্চলের অডিট পদে নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় ১৩ কর্মকর্তার বিচার শুরু


আপডেটের সময়ঃ অক্টোবর ২১, ২০২০


বাংলাদেশ রেলওেয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের অডিটর পদে  নিয়োগে দুর্নীতির দায়ে নিয়োগ পাওয়া ৮ জনসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৩ জন কর্মকতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইসমাইল হোসেন ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর এ আদেশ দেন। এই ১৩ কর্মকর্তা হলেন-রেলের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত এফএ/সিএ ও বর্তমানে সিভিল অডিট অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, রেলের পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) হিসাব কর্মকর্তা এবিএম মফিজুল ইসলাম, রেল ভবনের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও বর্তমানে বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতরের উপ-পরিচালক জিএম মামুনুর রশিদ, রেলের সিআরবি চট্টগ্রাম জোনের ডিএফএ এএফএম শহীদুল্লাহ ও মো. আনিসুল হক, অডিটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা হোসনা আক্তার (চট্টগ্রাম), রেলওয়ে ঢাকা অফিসের অডিটর ফারজানা সুলতানা, দিনাজপুর অফিসের অডিটর মো. নুরুল আমিন, চট্টগ্রামের অডিটর (প্রশাসন শাখা), সঞ্চিতা সাদেক, রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের অডিটর অপূর্ব বিশ্বাস ও জিএম আবুল কালাম, রেলওয়ে ঢাকা অফিসের অডিটর মো. মনিরুজ্জামান এবং নীলফামারী (সৈয়দপুর) অফিসের অডিটর প্রদীপ কুমার সরকার।

এর আগে ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অডিট পদে লোক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে নগরীর কোতোয়ালি থানায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসিরুদ্দিন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারী ১৩ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, অডিট দুর্নীতির দায়ে করা মামলায় আজ চার্জগঠনের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। বিচারকও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন হয়ে গেল। এ চার্জগঠনের মাধ্যমে তাদের বিচার শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আসামিরা রেলওেয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের অডিটর পদে নব নিয়োগের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিটির সদস্য ছিলেন। নিজেরা লাভবান হতেই পরস্পর যোগসাজশে তারা অপরাধমূলক এ কাজ করেন।

এদিকে ২০১৭ সালে রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার পদে থাকা অবস্থায় মোছাঃ রাশিদা সুলতানা গনি ১২১ জন সুইপার পদে সরাসরি নিয়োগের নির্বাচনি কমিটির আহবায়ক থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয়ের নিয়োগ বাণিজ্য করার অপরাধে শাস্তি হওয়ার আদেশ গোপন করে ৪ নম্বর বেতন স্কেল থেকে ৩ নম্বর বেতন স্কেল নেওয়ার পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী পানিসমেন্টে থাকা কোন কর্মকর্তার স্কেল উন্নতি চাওয়ার সুযোগ না থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ন মহাপরিচালক (অপারেশন) মোছাঃ রাশিদা সুলতানা গনি

কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ৩ নম্বর স্কেলে উন্নিত করার জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তার স্কেল উন্নতির প্রস্তাবটি সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।  তবে শাস্তির আদেশপত্রটি সুকৌশলে ফাইল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও সুত্র জানিয়ছে। একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে শাস্তির বদলে প্রমোশন দেওয়ার প্রস্তাব করায় রেল ভবনেও চলছে নানা সমালোচনা ও সৎ কর্মকর্তাদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার পদে থাকা অবস্থায় রেলওয়েতে ১২১ জন সুইপার পদে সরাসরি নিয়োগের নির্বাচনি কমিটির আহবায়ক থাকা অবস্থায় সরকারি কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন কোটা না মেনে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি তৎকালিন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে কারন দর্শানোর নোটিশ ও পরে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় উক্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তেও অনিয়ম দুর্নীতির প্রমান স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরকারী কর্মচারী বিধিমালা ( শৃঙ্খলা ও আপীল) ১৯৮৫ এর ৩ (বি) এর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয় এবং এই অপরাধে অভিযুক্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের  যুগ্ন মহাপরিচালক (অপারেশন) ও প্রাক্তন অতিরিক্ত চিফ অপারেটিং সুপারিটেন্ডেন্ট (পশ্চিম) মোছাঃ রাশিদা সুলতানা গনিকে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক দোষী সাব্যস্ত করে একই বিধিমালার বিধি ৪(২)(ক) অনুযায়ী তিরস্কার দন্ডে দন্ডিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই আদেশে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন। এদিকে নিয়োগ বাণিজ্যে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে পানিসমেন্ট হওয়ার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ন মহাপরিচালক (অপারেশন) মোছাঃ রাশিদা সুলতানা গনি বলেন, আমার শাস্তির ব্যপারে সবাই জানে আর এই সাজার নির্দিষ্ট একটা মেয়াদ থাকে কর্তৃপক্ষ সবকিছু বিচেনায় যদি আমার স্কেল ৩ এ উন্নিত করে করবে না করলে করবেনা। তবে ফাইলে পানিসমেন্টের কপি আছে কিনা তার জবাব না দিয়েই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।