রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রাম ইসকনের ব্যাপক প্রস্তুতি


আপডেটের সময়ঃ জুন ২৭, ২০২২

আগামী ১লা জুলাই ভগবান জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে চট্টগ্রাম ইসকনের ২৫ তম বিভাগীয় শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রায় এবার ব্যাপক জমকালো ও বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুন) নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইসকনের ২৫ তম (রজতজয়ন্তী) শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় রথযাত্রা উৎসবে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিও জানান।

পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মানুষের মিলনোৎসব হল রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রা উৎসবের উৎপত্তি ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের অন্তর্গত শ্রীজগন্নাথ পুরীধাম। পুরীধামে বিরাজিত আছেন জগতের অধীশ্বর, পরম দয়ালু, জীবের পরম আশ্রয়দাতা পরমেশ্বর ভগবান জগন্নাথ। জগন্নাথদেবের বিভিন্ন বিস্ময়কর ও অদ্ভুতলীলা থেকে উপলদ্ধি করা যায় তিনি মন্দিরে স্বয়ং বিরাজিত। কলিযুগের অধঃপতিত ধর্মবিমুখ জীবদের যারা মন্দিরে যেতে সময় পায় না তাদের দর্শন দানের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথদেব তার অহৈতুকী কৃপা বিতরণ করেন। রথযাত্রা হল পৃথিবীর একমাত্র উৎসব যেখানে ভগবান মন্দির থেকে বের হয়ে এসে রথে আরোহন করে নগর পরিক্রমা করেন। এই হল শ্রীজগন্নাথদেবের মহিমা।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য জগৎগুরু শ্রীল প্রভুপাদের কল্যাণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব জগতের নাথ জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব আজ সারা বিশ্বের প্রায় ১২৭টি দেশের সব বড় বড় শহরে সারা বৎসরব্যাপী হাজার হাজার বিদেশী ধর্মপ্রাণ নরনারীর অংশগ্রহণে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার মাধ্যমে এই বাংলার কৃষ্টি, প্রথা, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য সারা বিশ্বের প্রতি নগরাদি গ্রামে প্রচারিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার গর্বভূমি এই দেশে ধর্মীয় উৎসবসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় সবার অংশগ্রহণের উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়ার ফলশ্রুতিতে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও সর্বপ্রকার অশুভশক্তি শতবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেও বার বার দমিত হয়েছে।

বর্তমান সরকার ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এর স্থলে ধর্ম যার যার উৎসব সবার সংযোজন করেছেন। সংখ্যালঘুদের উপর বার বার পরিকল্পিত হামলা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিচ্ছে না। তাই প্রতিনিয়ত মঠ-মন্দিরে হামলা, গুম হত্যা ও ধর্ষন বেড়েছে। এসব গুপ্ত হত্যা করে দেশ থেকে সংখ্যালঘুদের বিতাড়িত করার একটা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকার যদি এসব হত্যকারীদের এবং মূল হোতাদের গ্রেপ্তারপূর্বক শাস্তি প্রদান না করে তাহলে দেশ অনেক দূর পিছিয়ে যাবে বলে প্রস্তুতি সভায় অভিমত প্রকাশ করেন।

নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী,  সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, এনায়েত বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন বড়ুয়া, শেষরূপ দাস  ব্রহ্মচারী, সুবলসখা দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী, কিশোর দাস প্রমুখ। এই বারের রথযাত্রায় চুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রামের সুনামধন্য ২২টি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নিবে বিভিন্ন পৌরাণিক সাজে সজ্জিত হয়ে। এছাড়াও প্রায় ১২০টির বেশী সংগঠন তাদের নিজস্ব ব্যানারে অংশ গ্রহন করবে।

প্রস্তুতি সভায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা আরো বলেন বিশ্বব্যাপী সনাতন ধর্ম প্রচারে অগ্রগামী সংগঠন ইসকনের বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও ভক্তদের উপর হামলা বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষ শান্তিপ্রিয় মানুষের হৃদয়কে বিদীর্ণ করেছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে এইসব ঘটনা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনাকালে ভক্তদের উপর হামলা করা হয় তা কি কোনো স্বাধীন বাংলাদেশের চিত্র হতে পারে না। ইসকন নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও শান্তিকামী ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ মানুষ এ দেশের সরকারের উপর আস্থাশীল। তাদের বিশ্বাস সরকার যেকোনো মুহূর্তে অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবেন এবং বাংলাদেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাংলাদেশে সকল ইসকন মন্দিরে নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং আগামী ১লা জুলাই, শুক্রবার  ও ৮ ই জুলাই, শুক্রবার পর্যন্ত নন্দনকানন  শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির এবং ডিসি হিল প্রাঙ্গন থেকে চট্টগ্রাম  বিভাগীয় কেন্দ্রীয় ইসকনের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম ইসকন আয়োজিত শ্রীজগন্নাথদেবের ২৫ তম (রজতজয়ন্তী) রথযাত্রা উৎসবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

অত্যন্ত জমকালো ও আড়ম্বরভাবে  উদযাপন করা হবে এবারের রথযাত্রা উৎসব এবং ৭ দিনব্যাপী জে. এম সেন হলে ভাগবদ সপ্তাহ পালন হবে। ১লা  জুলাই রথযাত্রায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞানুষ্ঠান, শ্রীজগন্নাথদেবের মধ্যাহ্নকালীন ভোগারতি, ধর্ম মহাসম্মেলন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈদিক নাটক অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় দেশী- বিদেশী অতিথিবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকতাবৃন্দ,  ইসকন মহারাজবৃন্দ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জাতীয় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়।

মহাশোভাযাত্রা নন্দনকানস্থ শ্রী শ্রী রাধামাধব মন্দির সম্মুখে ডিসি হিল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে চেরাগি পাহাড়- আন্দরকিল্লা- বক্সিরহাট বিট- লালদিঘীর পাড়- কোতোয়ালীর মোড়  – নিউ মার্কেট –  আমতলা – বোস ব্রাদার্স- নন্দনকানন শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রম এসে সমাপ্ত হবে।

নিউজ ডেস্ক

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।