যানবাহন চলাচলে শৃংখলা ফেরাতে ‘পস মেশিনে’ মামলা


আপডেটের সময়ঃ জানুয়ারি ৪, ২০২১


চট্টগ্রাম মহানগরীতে যানবাহন চলাচলে শৃংখলা ফেরাতে মামলার জরিমানায় চালু হয়েছে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন প্রক্রিয়া। পরিবহন মালিকদের ভোগান্তি এড়াতে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এর ট্রাফিক বিভাগ এ প্রক্রিয়া চালু করেছে।

এর আগেও নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে যানবাহন সমূহকে মামলা-জরিমানা করা হয়। যানবাহনের মালিক জরিমানা পরিশোধ করে মামলা নিষ্পতি করতে গিয়ে আরেক দফা ভোগান্তির শিকার হন। বিভিন্ন সময় জরিমানার নামে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। তাই যানবাহনে ডিজিটাল পস মেশিনে মামলার পর তাৎক্ষণিক রাস্তাতেই গ্রাহকরা ব্যক্তিগত ইউক্যাশের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। তবে পস মেশিনে প্রতিবার জরিমানা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ কাটা হয়।

তবে পস মেশিনে ছোট গাড়িরও বড় জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এর আগে মেট্টোপলিটন পুলিশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯২(১) এবং ৯২(২) এর মোটরসাইকেল এবং থ্রি-হুইলার পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রথমবার এক হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় বার দুই হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করতেন, যা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সার্জেন্টদের পস মেশিন প্রদান করার পর এক হাজার টাকার স্থলে ৩ হাজার এবং দুই হাজার টাকার স্থলে ৬ হাজার টাকা সেট করা হয়েছে।

ট্রাফিক সার্জেন্টরা জানান, বড় গাড়ির তুলনায় নগরীতে ছোট গাড়িগুলো অনিয়ম বেশি করে। তাই সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে বেশি মামলা হয়। তবে আমরা এখন থেকে আর কাগজের স্লিপের মাধ্যমে মামলা প্রদান করবো না, পস মেশিনের মাধ্যমে মামলা দিব।

ট্রাফিক বিভাগের তথ্য মতে, শুধুমাত্র গত ডিসেম্বর মাসে নগরীর চারটি জোনে ১১ হাজার ৬৮৭টি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা। যার মধ্যে শুধু ছোট গাড়িগুলো থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ, ছোট গাড়ি (মোটরসাইকেল, সিএনজি ট্যাক্সি-টেম্পু) থেকেই মামলা ও জরিমানার পরিমাণ বেশি আদায় হয়েছে। যা মূল টাকার ৬০ শতাংশ। বর্তমানে পস মেশিন ব্যবহারের ফলে জরিমানার পরিমাণ আরও বেশি হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। রাস্তায় সার্জেন্টের কাছে থাকা পস মেশিনে গাড়ির নম্বর, মামলার কারণ ও জরিমানার পরিমাণসহ সব ধরনের তথ্য লেখা হবে। এরপর গ্রাহককে তাৎক্ষণিক একটি রসিদ দেওয়া হবে। মামলার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির জরিমানার ব্যাপারে সব তথ্য তাৎক্ষণিক সিএমপির কেন্দ্রীয় সার্ভার ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে জমা হবে। এর ফলে গাড়ির মালিক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জরিমানা প্রদানের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।

ট্রাফিক বিভাগ বলছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা হচ্ছে। এখনও পস মেশিনের মাধ্যমে পুরোদমে মামলা দেয়া শুরু হয়েছে।  নগরীতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত মামলা ও গাড়ি জব্দ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন হওয়ার পূর্বে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) পস মেশিনের মাধ্যমে মোটরযান অধ্যাদেশ আইন প্রয়োগ করে মামলা প্রদান করতেন। কিন্তু নতুন আইন বাস্তবায়ন হওয়ার পর কাগজের (কেইস স্লিপ) মাধ্যমে মামলা প্রদান করা হলেও পস মেশিনে মামলা প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার তা চালু হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে আজ থেকে পস মেশিনের মাধ্যমে মামলা দেয়া শুরু করেছি। ঢাকাসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকাতে পস মেশিনে মামলা দেয়ার প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। কিন্তু মহামারির কারণে আমাদের একটু দেরি হয়ে যায়। তবে এখন থেকে মামলা প্রদানের জন্য সার্জেন্টরা পস মেশিনই ব্যবহার করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।