বঙ্গবন্ধু ভাষণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ: চট্টগ্রাম জিওসি


আপডেটের সময়ঃ মার্চ ১৭, ২০২১


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বের করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাসহ প্রায় তিন শতাধিক সেনাসদস্য এতে যোগ দেন।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে সেনানিবাসের নিসর্গ চত্বর থেকে বের হয় শোভাযাত্রা। উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে সেনাসদস্যদের সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের হাতে ছিল বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বক্তব্যের উদ্ধৃতিসহ তাকে নিয়ে লেখা গান-কবিতার অংশবিশেষ লিখে বানানো প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গান এবং দেশাত্মবোধক সঙ্গীতের সুরে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এর তালে তালে এগিয়ে যাওয়া শোভাযাত্রা সেনানিবাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে দেওয়া বক্তব্যে মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন বলেন, বাঙালি জাতির জন্য আজ ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। আজ বাঙালি জাতির জনকের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধু আমাদের মহান স্বাধীনতার রূপকার। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার দিন থেকে আমরা মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু গত একবছর আমরা কোভিড সংক্রমণের কারণে মুজিববর্ষের  যে পরিকল্পনা আমাদের ছিল সেটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এরপরও আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উদযাপনের চেষ্টা করেছি।

বঙ্গবন্ধুকে ক্ষণজন্মা পুরুষ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ পথযাত্রার সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন ১৯৪০ সালে রাজনীতিতে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৬৬ সালে তিনি ছয় দফা দেন। তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা দেন, তাকে কারাগারে নেন। তবে প্রবল গণঅভ্যুত্থানে পাকিস্তান সরকার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ১৯৭০ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়নি। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আহ্বান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন। তার এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজ বঙ্গবন্ধুর ১০১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন আয়োজন করেছি। নতুন প্রজন্ম যদি তার আদর্শ-চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারে, তাহলেই হবে এই দিবসটি উদযাপনের স্বার্থকতা। আসুন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থেকে আমরা একযোগে কাজ করব।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর ১০১ তম জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেনানিবাসের মূল প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থাপনা আলোকায়ন করা হয়েছে। সেনানিবাসের বিভিন্ন সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাণীসম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনী, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের গুইমারা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি রিজিয়ন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, আর্টিলারি সেন্টার স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।