বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চট্টগ্রামে মমতা শঙ্করের নৃত্য পরিবেশনা


আপডেটের সময়ঃ মার্চ ২২, ২০২১


জন্মশতবর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চট্টগ্রামে নৃত্য পরিবেশন করেছেন ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর ও তার দল।

রোববার (২১ মার্চ) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মনোমুগ্ধকর নৃত্য দেখে একটি সন্ধ্যা পার করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ভারতীয় হাই কমিশন এবং সহকারী হাই কমিশন, চট্টগ্রাম এ আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত-বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,  আজ আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেছি সেই মমতাময়ী নারী সেদিনের ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধীকে যিনি ১৯৭১ সালে  মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় না দিলে অস্ত্রের যোগান না দিলে এ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে আমাদের হাজার বছরের কাংখিত স্বাধীনতা বাস্তবে রূপ দিতে পারতাম কিনা সন্দেহ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। এ সম্পর্ক চিরদিন অটুট থাকবে। আমরা যখন পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনীর আক্রমণে বিপর্যস্ত তখন ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। এ সম্পর্ক কোনোদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। কারণ দুর্দিনে যে বন্ধু হয় তাকে মানুষ কোনোদিন ভুলতে পারে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আপস করতে পারি না। যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনা আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে সকল কোভিড প্রটোকল মেনে আজকের এই মনোমুগ্ধকর নৃত্যানুষ্টানে আসার জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।বাংলাদেশ যখন শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মানুষ্টান পালন করে ভারতও গর্বের সাথে দাবী করে যে তিনিও আমাদের ইতিহাসের অন্তভুক্ত এবং আমরা বাংলাদেশের ঘনিষ্ট প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।বঙ্গবন্ধু ভারতের মানুষের কাছে ততটা শ্রদ্ধাশীল যতটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে।বঙ্গবন্ধু আধুনিক বাংলাদশের স্হপতি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী সাহসী নেতা ছিলেন।তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ন্যায় বিচারের পক্ষে ছিলেন।বাংলাদেশের জন্য তার ত্যাগ বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশের আজ অনেক অর্জন হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। তিনি বাংলদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য এবং একটি সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে লড়াই করেছিলেন আজ তার কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সোনার বাংলা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে এগিয়ে চলেছে।১৯৭১ সাল থেকে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশি এবং বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে আমরা বাংলাদেশের অনেক অর্জনে, বিশেষত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অর্জনে আমরা গর্বিত।’

এরপর ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করের দলের নৃত্য পরিবেশনা শুরু হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জয়’, ‘আলোর অমল কমল কে ফুটালে’ সলীল চৌধুরীর গান ‘ধিতাং ধিতাং বলে’– বিভিন্ন গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তারা দর্শকের মন জয় করে নেন। ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি’, ‘বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ’- গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ পরিবেশনা। উপস্থিত দর্শকরা সম্মিলিত এই নৃত্য দেখে মুগ্ধ।

মমতা শঙ্কর শুধু ভারতের নন, সারাবিশ্বে প্রখ্যাত একজন নৃত্যশিল্পী। তিনি একজন অসামান্য প্রতিভাবান অভিনেত্রীও। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে উনার মতো একজন গুণি শিল্পীর পরিবেশনা এ আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। গানের তালে অপূর্ব নৃত্যশৈলীতে ভারতের শিল্পীরা মোহাবিষ্ট করে রাখেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিমনা দর্শক-শ্রোতাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।