ফটিকছড়িতে ঢিলেঢালা লকডাউন: কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা করছে উপজেলা প্রশাসনের

আপডেটের সময়ঃ জুন ২৪, ২০২১

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউন ঢিলেঢালাভাবে চলছে। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ব্যাপক সংক্রমণ রোধে এই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল গত মঙ্গলবার। তবে প্রত্যেক ইউনিয়নে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার থেকে লকডাউন শুরু হলেও বৃহস্পতিবার থেকে প্রশাসন আরও কঠোর হবে বলে জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফীন।

জানা গেছে, সিএনজি অটোরিকশাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সীমিত আকারে অন্যান্য গণপরিবহনও ফটিকছড়িতে ঢুকতে এবং বের হতে দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানগুলোতে মার্কেট-দোকানপাট প্রায় বন্ধ আছে। তবে গ্রামের ভেতরে দোকানপাট খোলা আছে। দুই সপ্তাহে ফটিকছড়ি উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার পর বুধবার থেকে ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ওই উপজেলায় আট দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। লকডাউন চলাকালীন সময়ে নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুধুমাত্র মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা থাকতে পারবে। ওষুধের দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান খোলা থাকতে পারবে না। মার্কেট-শপিংমল, কমিউনিটি সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। জনসমাগম হয় এমন কোনো আয়োজন করা যাবে না। উপজেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে ফটিকছড়ি উপজেলায় জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ঢুকতে পারবে না, ফটিকছড়ি থেকেও কোনো পরিবহন যাত্রী নিয়ে অন্য উপজেলায় যেতে পারবে না। ফটিকছড়ির উপর দিয়ে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল করতে পারবে, তবে উপজেলার ভেতর কোনো যাত্রী উঠানামা করা যাবে না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

বুধবার দুপুরে উপজেলা সদর ও নাজিরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজি অটোরিকশাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ৫-৭ জন করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। নাজিরহাট কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড় ছিল। তবে সেখানে মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে কয়েকটি মার্কেট খোলা ছিল। দোকানপাটও কিছু কিছু খোলা দেখা গেছে। ইউএনও সেখানে গিয়ে তাদের সতর্ক করার পর সেগুলো বন্ধ করা হয়। নাজিরহাট ও উপজেলার সদরের আশপাশের গ্রামের ভেতরে দোকানপাট খোলা দেখা গেছে।

জানতে চাইলে ইউএনও মো. সায়েদুল আরেফীন বলেন, কিছু অটোরিকশা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। কয়েকটিকে আমরা জরিমানা করেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু দোকানপাট খুলেছিল, সেগুলোকে আমরা সতর্ক করেছি। প্রত্যেক ইউনিয়নে মাইকিং করা হচ্ছে। আজ (বুধবার) আমরা খুব সামান্যই জরিমানা করেছি। বৃহস্পতিবার থেকে আমরা আরও কঠোর হব।

বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফটিকছড়িতে যাত্রীবাহী বাস প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।

এদিকে বুধবার রাত ৮টা পর চট্টগ্রাম মহানগরী এবং আশপাশের এলাকায় সকল মার্কেট-শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।