পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রামে পোশাককর্মী ও কর আইনজীবির আত্মহত্যা


আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১


চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক পোশাক কর্মী ও একজন কর আইনজীবি আত্মহত্যা করেছে। মহানগরীর ডবলমুরিং থানাধীন এলাকায় এই দুইটি ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পোশক কর্মী বিবি খাদেজা ও কর আইনজীবি রিংকু দাসের লাশ উদ্ধার করেছে।

এদিকে পোশককর্মী বিবি খাদেজার মরদেহ উদ্ধার করে স্বামী নিজেও পুলিশকে খবর দিয়ে মত্যুটিকে ‘আত্মহত্যা’বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই জানা যাবে মৃত্যুটি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যা। এদিকে নিহত নারীর স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

জানা গেছে, ভালোবাসে বিয়ে করেছিলেন সীতাকুণ্ডের ১৯ বছর বয়সী বিবি খাদেজা। পেশায় ছিলেন পোশককর্মী। তিনি ভাড়া থাকতেন ডবলমুরিং থানার চৌমহুনী এলাকার সুলতান কলোনিতে। বিয়ের পর থেকেই তার জীবনে পারিবারিক কোন্দলের ঝড়। নানা ছুঁতোয় বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করতেন স্বামী। এমনই পরিস্থিতিতে বিয়ের চারমাসের মাথায় নিজের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার হল খদিজার ঝুলন্ত লাশ।

পুলিশ জানায়, কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী সাদ্দাম হোসেনের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছেন মাত্র চারমাস হলো। ঘর করেছিলেন নগরের ডবলমুরিং এলাকার ভাড়া বাসায়। এরমধ্যে দুজনের সংসারে সুখের বদলে নিত্য সঙ্গী ছিল অভাব অনটন ও পারিবারিক বিবাদ। তাদের মধ্যে প্রায় সময়ে ঝগড়া হতো। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীকে পেটাতেন স্বামী।

মঙ্গলবারের বিবাদে অভিমান করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করছেন স্বামী।  সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ডবলুমরিং থানার চৌমহুনী এলাকার সুলতান কলোনির ভাড়া বাসা থেকে পোশাককর্মী খাদেজার লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন স্বামী।  খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী সাদ্দামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পোশাককর্মীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, পোশাককর্মী খাদেজার সাথে সকালে তার স্বামী সাদ্দামের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পর সাদ্দাম বাসা থেকে বের হয়ে গেলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানান তার স্বামী। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করে ময়না তদন্ত করাচ্ছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই বলা যাবে এটি আত্মহত্যা না হত্যা।

এদিকে নগরের কোতোয়ালি থানার আলকরণ ২ নম্বর গলির বাসিন্দা রিংকু দাস নামে এক আইনজীবিও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। প্রেম করে বিয়ে হয়েছে গত চার বছর আগে। পেশায় কর আইনজীবী রিংকুর স্বামীও একজন কর আইনজীবী। দুজনের সংসারে রয়েছে ৩ বছরের শিশু কন্যা পরমা দাশ। স্বামী-শ্বাশুড়ির সঙ্গে অভিমান করে সোমবার রাতের কোনও এক সময়ে নিজ রুমের সিলিংয়ের সাথে কাপড় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। যদিও এসময় স্বামী-শ্বাশুড়ি কেউ বাসায় ছিলেন না।

মঙ্গলবার সকালে নগরের ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলির নাজির পুল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রিংকুর গ্রামের বাড়ি কোতোয়ালি থানার আলকরণ হলেও স্বামী রাজন দাশের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নে দুরদুরী গ্রামে। রিংকু দাস তার স্বামী-কন্যা ও শ্বাশুড়িকে নিয়ে থাকতেন নাজিরপুলে।

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভাড়াবাসা থেকে কর আইনজীবী রিংকু দাসের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে স্বামীর সাথে অভিমান করে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে মেয়ে ও স্বামীর পরিবারের লোকজন জানিয়েছে। এরপরও  হত্যা না আত্মহত্যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্বামী কর আইনজীবী রাজন দাশ বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আমি সাতকানিয়া গ্রামের বাড়ি যাই। রিংকু মেয়েকে নিয়ে বাসায় ছিল। ওই দিন রাতে কেন বাসায় আসিনি তা নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঝগড়া হয়। পরে রাত ৮টা থেকে মোবাইলে কল দিয়ে গেলেও তার ফোন ব্যস্ত পাই। সকালে খবর পেলাম সে আত্মহত্যা করেছে।

কেন আত্মহত্যা করতে পারে আইনজীবী রিংকু দাস। তার কারণ বলতে গিয়ে স্বামী কর আইনজীবী রাজন দাস বলেন, সে আর আমি একই সাথে কমার্স কলেজে পড়ালেখা করেছি। একই সাথে সিএও করেছি। তার সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর গত চার বছর আগে বিয়ে করি। কিন্তু বাসায় আমার মা থাকতো বলে তার সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো। এখন কেন কি কারণে আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্ত নিল আমি বুঝচ্ছি না।

বোনের আত্মহত্যার ঘটনাকে নিয়তিকে দায়ী করে নিহত রিংকু দাসের স্বামীর পক্ষে বললেন তার বড় ভাইও। এ আত্মহত্যা নিয়ে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ নেই বলেও জানান তারা। এমনকি ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকার করতে চেয়েছিলেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।