পাচঁ বছরেও অগ্রগতি নেই দিয়াজ হত্যা মামলার

মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি

আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর ১৯, ২০২১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার পাচঁ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। এ অবস্থায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দিয়াজের পরিবার। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এ মামলার কয়েকজন আসামিকে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশে দেখা যায়। আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। এদিকে মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাওয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিয়াজ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। একইসঙ্গে ছিলেন চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি  মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দিয়াজের বড় বোন অ্যাডভোকেট জুবাইদা সরওয়ার চৌধুরী নীপা জানান, সিআইডিতে বারবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন ছাড়া মামলার আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। উনারা তদন্তও করছেন না। আসামিদের প্রকাশ্যে দেখা গেলেও তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

এদিকে হত্যাকান্ডের শুরু থেকেই দিয়াজের পরিবার ও চবি ছাত্রলীগের একাংশ দাবি করে আসছিলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। প্রতিবেদনে তাকে হত্যার আলামত মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে দিয়াজের পরিবার।

দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, চবি ছাত্রলীগের সে সময়ের সভাপতি আলমগীর টিপু, ছাত্রলীগ নেতা আবুল মনসুর জামশেদ, তাদের অনুসারী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান। অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

জাহেদা আমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজের শরীরে আঘাতজনিত জখমের মাধ্যমে হত্যার আলামত আছে। আদালতের নির্দেশে হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। ওই সময়কার ওসি বেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজেই তদন্ত শুরু করেন। পরে মামলার তদন্তভার  যায় সিআইডির কাছে। সিআইডির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান তদন্ত শুরুর পর বদলি হন। এরপর থেকে আরও দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুস সালাম মিয়া জানান, দিয়াজ হত্যা মামলাটি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।