নকল মাস্কে সয়লাব চট্টগ্রাম


আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর ২২, ২০২০


বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নকল মাস্কে ভরে গেছে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর সাথে সাথে মাস্কের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র নকল মাস্ক উৎপাদন করছে। যার ফলে ভোক্তা সাধারণ আতংকে রয়েছে।

ক্রেতাদের প্রশ্ন, বাজারের এসব পলিথিনে রাখা খোলা সার্জিক্যাল মাস্ক বক্সে ঢুকিয়ে কতটা করোনা সুরক্ষা দিতে পারবে? আবার একই বক্সে মিলছে ৪ থেকে ৫ প্রকারের নকল মাস্ক। যা অশনি সংকেত দিচ্ছে জনমনে। এদিকে নগরীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও করছেন। বাইরে বের হলেই মুখে মাস্ক পরে বের হওয়ার  নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। অর্থদন্ড দেওয়া হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার না করা ব্যক্তিদের।

এদিকে এসব অপকর্মের জন্য প্রশাসনের কিংকর্তব্যবিমুঢ় হওয়াকে দায় করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলছে, শুধু রাস্তায় নেমে জরিমানা করলে হবে না। বাজারে নকল মাস্ক যারা বিক্রি করছে তাদের দোকানে অভিযান পরিচালনা করার পরামর্শ দিচ্ছে ভুক্তভোগীরা।

আন্দরকিল্লা এলাকায় দেখা গেছে, পলিথিন ভর্তি করে ভ্যান গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নকল মাস্ক। ভ্যানওয়ালা জানান, এসব মাস্ক খলিফাপট্টির বড় সেলিমের কারখানা থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রিয়াজউদ্দিন বাজারে। তিনি এর বাইরে আর কিছু বলতে অপরাগতা জানান।

ভ্যানওয়ালার দেয়া তথ্য মতে, রিয়াজউদ্দিন বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিললো এসব নকল মাস্ক ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে মার্কেটের দোকানদারও সাজিয়ে রেখেছে। পলিথিন ভর্তি এসকল মাস্ক খালি হাতে সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া নান্দনিক বক্সে নিয়ে তার দাম হাকা হচ্ছে ১২০ টাকা। পাইকারি মার্কেটে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব মাস্ক। এক বক্স সার্জিক্যাল মাস্কের আগে দাম ছিল ৫৫ টাকা। বর্তমানে সে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। খুচরায় একটি মাস্ক ৫ টাকা করে বিক্রি হতো কিন্তু এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ খুব দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে সার্জিক্যাল নামক নকল মাস্ক কিনছে। এসব নকল মাস্কে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে না, তেমনি প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ ভুলের মাশুল হিসেবে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ দিতে হবে।

নকল মাস্কে বাজার ছেয়ে গেছে নকল মাস্কে এমনটা বলেছেন রিয়াদুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা। তিনি বলেন,সার্জিক্যাল মাস্ক কিনলাম ১২০ টাকায়। কিন্তু এ মাস্ক করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যকর হবে কিনা জানি না। একই বক্সে ৪ বার পরিবর্তন করে আশানুরূপ মাস্ক পেলাম। কেউ বলছে, তাদের মাস্ক ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। আর কেউ বলছে, বাইরে থেকে আমদানি করেছে। কিন্তু মাস্কের গুণগত মান দেখে মনে হচ্ছে না এসব মাস্ক করোনা ঠেকাতে পারবে। প্রশাসন এ ব্যপারে কিংকর্তব্যবিমুঢ়। শুধু রাস্তায় নেমে জরিমানা করলে তো হবে না। বাজারে নকল মাস্ক যারা বিক্রি করছে তাদের দোকানে অভিযান পরিচালনা করা দরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।