ধূলার নগরী চট্টগ্রাম: ভোগান্তিতে নগরবাসী


আপডেটের সময়ঃ অক্টোবর ১৮, ২০২০


চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি  এলাকায় গড়ে উঠেছে ধূলার রাজ্য। বাণিজ্যিক রাজধানী নামে খ্যাত চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ধূলার দাপটে বেকায়দায় সাধারণ পথচারীরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চলমান উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি নিয়মিত পানি ছিটানো হয়না সড়কে। ফলে সড়কে বাড়ছে ধূলার দূর্ভোগ। সৃষ্টি হচ্ছে চর্ম, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ। প্রতিটি উন্নয়ন কাজের বরাদ্দে ২ শতাংশ পরিবেশ ব্যয় ধরা হলেও তা কোনো অর্থেই ব্যয় করা হয় না। এছাড়া চসিকের পানি ছিটানোর দায়িত্ব কিংবা তা ছিটাতে বাধ্য করার কথা থাকলেও আগ্রাবাদ এলাকায় সেই ধরণের কোনো কাজ কারো চোখে পড়েনি বলে জানিয়ছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলছেন, আগ্রাবাদ মোড়, পোর্ট কানেক্টিং রোড, স্ট্র্যান্ড রোড ও আরাকান সড়কসহ আগ্রাবাদের আশপাশে গড়ে উঠেছে ধূলার রাজ্য। হালিশহর থেকে দেওয়ানহাটের চিত্রও একই রকম। কাস্টমস মোড় থেকে বারেক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে সিডিএর অর্থায়নে সেনাবাহিনীর একটি দল। অন্যদিকে মাঝিরঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত সড়কের সংস্থার কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। আবার চসিক দীর্ঘ বছর ঘরে পোর্ট কানেক্টিং সড়কের সংস্কার কাজ করছে। সব মিলিয়ে এই এলাকায় উন্নয়ন কাজের কারণে জনজীবন ধুলা বালিতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

নগরীর হালিশহরের বাসিন্দা ইকবাল জানান, তিনি আগ্রাবাদ এলাকার বারেক বিল্ডিং মোড়ে এসেছেন অফিসের কাজে। দুর্ভোগের কথা তুলে তিনি বলেন, আমরা যারা আগ্রাবাদ-হালিশহরে থাকি, এখানে সারাবছরই ধূলার সমস্যা থাকে। বর্ষায় একটু কমে। তা-ও তখন পানি উঠে। আর শুষ্ক মৌসুম আসলে ধুলা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) বলছে, ধুলা দূষণের প্রধান কারণ হলো এই যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি আর অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ। প্রতিটি উন্নয়নকাজে ২ শতাংশ পরিবেশ ব্যয় ধরা হলেও তা কোনো অর্থেই ব্যয় করা হয় না। অন্যদিকে ঠিকাদাররা খেয়াল খুশি মতোই তারা পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমানোর বদলে দিনদিন এই দুর্ভোগ বাড়িয়েই চলছে। উন্নয়নটা জনগণের কম ভোগান্তি করে করে সমন্বিত উন্নয়ন কৌশলটাও জরুরি বলেও মত তাদের।

অন্যদিকে ধূলার দূষণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ধুলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। রাস্তার পাশে দোকানের খাবার ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণুমিশ্রিত ধূলা ফুসফুসে প্রবেশ করে সর্দি, কাশি, ফুসফুস ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, শ্বাসজনিত কষ্টসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। ধূলার কারণে দোকানের জিনিসপত্র দ্রæত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি আসবাবপত্রসহ কাপড়-চোপড়ে ধুলা জমে যেভাবে প্রতিদিন নগর জীবনকে নোংরা করছে, তা পরিচ্ছন্ন রাখতেও নগরবাসীকে নষ্ট করতে হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমঘণ্টা ও বিপুল পরিমাণ পানি এবং ডিটারজেন্ট।

এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ কথা বলতে অস্বকৃতি জানান। তিনি জানান, গণমামাধ্যমে কথা না বলার জন্য অফিসিয়াল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসক কিংবা চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে প্রশাসক সুজনকে ফোন দেওয়া হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।

পরে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করা  হলে তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমের কথা মাথায় রেখে আগামী সপ্তাহ থেকে আগ্রাবাদসহ পুরো নগরীতে পানি ছিটানো শুরু করবে চসিক। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সৃষ্ট ধূলাবালি নিরসনে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয় করে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।