দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত


আপডেটের সময়ঃ মার্চ ১১, ২০২১


কিডনি রোগ মানবজাতির পঞ্চম মৃত্যুর কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ )  চট্টগ্রামস্থ ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এবং বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ইমপেরিয়াল হাসপাতাল লিঃ (আই.এইচ.এল) এ বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে চিকিৎসকগন এমন মন্তব্য করেন। প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়।

“কিডনি রোগে সুস্থ থাকুন” এ স্লোগানকে সামনে রেখে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দুপুর ১টায় ইমপেরিয়াল হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে কিডনি (নেফ্রোলজি) বিভাগের উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইমপেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ডা. আরিফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ডা. তারেক আল নাসির সিএমও, ডা. শওকত আজাদ রেজিস্ট্রার নেফ্রোলজী, ডা. সত্যজিৎ রায় সহকারী অধ্যাপক, নেফ্রোলজী, ইউএসটিসি।

বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্বের জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় ও ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ আকস্মিক কিডনি রোগে মারা যায়।

দেশে ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন,কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা-৪৮০ জন, উচ্চ-রক্তচাপ জনিত দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা- ৫১৩০ জন, ডায়াবেটিস জনিত দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা-৬৩৮০ জন, কিডনির ছাকনিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ জনিত কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা- ২৬০০ জন, অন্যান্য কারনে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা- ৫২১০ জন। সেমিনারে বক্তাগণ, কিডনি সুস্থ রাখতে এবং কিডনি রোগ থেকে বাঁচতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুষম খাদ্যগ্রহণ, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চিকিৎসকগণ বলেন, এ রোগে আক্রান্তদের একসময় সম্পূর্ণ কিডনি বিকল হয়ে যায়। তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ছাড়া বাঁচার উপায় থাকে না। এ দুটো চিকিৎসা পদ্ধতিই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অথচ বিশ্বের অনেক দেশেই মানসম্মত কিডনি রোগ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তারা বলেন, আমাদের দেশেও কিডনি রোগের চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নেফ্রোলজিস্ট রয়েছে ১৭০ জন, ইউরোলজিস্ট ২৭৮ জন ও কিডনি প্রতিস্থাপন করার চিকিৎসক ১৫ জন। কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয় সরকারী ১৬ টি প্রতিষ্ঠানে (মোট ২৯২ শয্যা), এবং বেসরকারী ২৭ টি প্রতিষ্ঠানে (মোট ২৭৮ শয্যা)। এ পর্যন্ত ৮টি প্রতিষ্ঠানে ১৮৯৯ টি কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ আরো উল্লেখ করেন, কিডনি রোগের উৎপত্তি ও এর ক্রমাগত কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া প্রায় ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় রোধ করা যেতে পারে। কিডনি রোগ প্রতিরোধে তিনটি স্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথম স্তরে প্রাথমিকভাবে কিডনি রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর নজর দিতে হবে এবং কিডনি,মূত্রনালি,মূত্রথলি ও প্রস্রাবের রাস্তার কাঠামোগত ত্রুটির চিকিৎসা করতে হবে। কিডনি-ক্ষতিকারক কোনো ওষুধের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ কিডনি রোগের প্রধান দুটি কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ১০ বছর পূর্বে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর হার ছিল ৫-৬ ভাগ; বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-১২ ভাগ। উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ১০ ভাগ এবং এখন তা ২০-২৫ ভাগ। বর্ধিত হারে এই দুই রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  তৃতীয় স্তর অর্থাৎ যারা ধীরগতির কিডনি রোগের চিকিৎসায় আছেন এবং শতকরা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কিডনি কাজ করছে না;তাদের ক্ষেত্রে কিডনি অকেজো রোগের জটিলতা,বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের জটিলতা থেকে প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।