জিডিপি বাড়াতে এইচএম স্টিল ইন্ডাস্ট্রি অবদান রাখবে: ভূমিমন্ত্রী


আপডেটের সময়ঃ মার্চ ৬, ২০২১


এইচ এম স্টিল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড দেশের জিডিপি বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

শনিবার (৬ মার্চ ) বেলা ১১টার মোস্তফা হাকিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচ এম স্টিল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

এইচ এম স্টিল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বলেন, এইচএম ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে যদি কর্মস্থানের সুযোগ হয় অবশ্যই করবেন। তবে অন্যায় আবদার করা যাবে না। যাতে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি না হয়। এটা মনজুর আলমের প্রতিষ্ঠান নয়, এটা দেশের সম্পদ। দেশের জিডিপি বাড়াতে এই প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।  জাবেদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সাথে অনেকেই জড়িত। ব্যাংক, এলাকার মানুষ, প্রতিষ্ঠান- সবাই জড়িত। প্রতিষ্ঠান যদি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে এর সঙ্গে জড়িত সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হবে।  তিনি বলেন, মনজুর সাহেব আমাকে জানালেন- আপনার এলাকায় একটি ইন্ডাস্ট্রি করতে যাবো। আমি বললাম- করেন। আমার সহযোগিতা থাকবে। তিনি সবকিছু সুন্দরভাবে ব্যবস্থা করেছেন। সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করেছেন বলেই আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, মনজুর সাহেব আমার অত্যন্ত আপনজন। তাকে আমি মুরব্বি হিসেবে দেখি। তিনি একজন দানবীর মানুষ। মোস্তফা-হাকিম গ্রুপের অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান আছে। তারা নিরবে দান করেন। দেশ এবং জাতির কল্যাণে কাজ করেন।

জাবেদ বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা চট্টগ্রামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে অনেক ভারি ও হালকা শিল্প প্রতিষ্ঠান হয়েছে। এ শিল্পায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। আমি এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করবো- যেন এলাকার স্থানীয় লোকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমিও ব্যক্তি জীবনে একজন ব্যবসায়ী। আমারও ইন্ডাস্ট্রি আছে। যদিও মনজুর সাহেবের মতো এতো বেশি ইন্ডাস্ট্রির মালিক আমি না। হতেও পারবো না। মনজুর আলমের সঙ্গে তুলনা করলে আমি কুটির শিল্প ক্যাটাগরির লোক, আর মনজুর সাহেব হলেন ভারি শিল্পের লোক। মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠান যদি ভালো করে, তাহলে এলাকাবাসীও লাভবান হবে।

জাবেদ বলেন, করোনার কারণে সবাই বন্দি ছিলাম। জিন্দা কবরে ছিল মানুষ। ৬ থেকে ৭ মাস মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। অনেক আপনজন হারিয়েছি। তবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমরা একটা ভালো অবস্থানে যাবো। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে গেছে৷ সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ আপনার কারণে অন্যজন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক ছাড়া বের হবেন না। ভ্যাকসিন নিয়ে সর্তক অবস্থানে থাকবেন। দু’সপ্তাহ ঘরে থাকবেন।

তিনি বলেন, এখান থেকে নদী কাছে। মালামাল নদী পথে নিয়ে যাবেন। তাহলে এলাকার রাস্তাগুলো ভালো থাকবে। এলাকার উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এলাকার মানুষ সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে পারবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন না করলে আজ শিল্প কারখানার যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, তা হতো না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬০টি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছেন। আপনারা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করবেন। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো।

সভাপতির বক্তব্যে এইচএম ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- তাই এখানকার রাস্তাগুলো উন্নত হওয়া দরকার।  তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ অনেক ভাগ্যবান। এখানে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে। আপনাদের সহযোগিতার কারণেই এসব কিছু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শওকত জামিল এবং মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সরওয়ার আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোস্তফা হাকিম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নিপু চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।