চসিক নির্বাচনে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হানিফের


আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০২০


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগের জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চসিক নির্বাচনে প্রায় ওয়ার্ডে বিদ্রোহী হিসেবে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এদের ব্যাপারে দলের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেও দলের সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে যারা নির্বাচন করবেন এবং দলীয় অবস্থানে থেকে প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবেন না, ভবিষ্যতে তাদেরকে নৌকার প্রতীক পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচনে ইভিএম বিষয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা (বিএনপি) অংশ নেয়। প্রথম থেকেই তারা এটি বিরোধিতা করে আসছেন। এর আগেও ইভিএম নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার করা হয়েছে। এটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে নীতি-নৈতিকতার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সমাজে পচন ধরে গেছে। আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা উচিত। তোমারাই আগামী দিনের কাণ্ডারী। ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হলেই সুখী হওয়া যায়, তা নয়। নৈতিক অধঃপতন থেকে বেরিয়ে আসা জরুরী।  এসময় তিনি অভিভাবকদের সন্তানের প্রতি নজর রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সন্তানদের নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিন। ছেলেরা কিশোর গ্যাং ও ড্রাগের দিকে ঝুঁকছে। তাদের মনিটরিং করুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি সাজ্জাদ আলম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুবনা হারুন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করছেন। তারা বলছেন আলেমদের সম্মান দিয়েই কথা বলতে। কিন্তু যারা ধর্মের  অপব্যাখ্যা করেন তাদের কে সম্মান দিয়ে কথা বলবে?  দেশের সাবেক ও বর্তমান প্রধামন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য করলে দেখবেন-মানুষ শিক্ষা থাকলে কি করতে পারে এবং শিক্ষার অভাবে কি করে। শিক্ষা না থাকায় বেগম জিয়া রাষ্ট্রকে কোথায় নিয়ে গেছেন। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন ছিল তা একসময় আমাদের ফ্রিতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের নিরাপত্তার অজুহাতে তা নেয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে তা কিনে নেয়।

মা শিক্ষিত না হলে সন্তানদের কেমন অধঃপতন হয় তার উদাহরণ টেনে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান হাওয়া ভবন তৈরি করেছিলেন অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই সন্তান নিজ যোগ্যতায় উদ্ভাসিত। কোনো রকমে স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে সবাই চায় ভালো কলেজে ভর্তি হতে আর তারেক রহমান ভর্তি হতে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে এক কলেজে পড়ার জন্য। তার ওই শিক্ষা দিয়ে ৫ বছরে হাওয়া ভবন বানিয়ে দেশে যে অবস্থা করেছিল, দেশবাসীকে এখনও তার মাশুল দিতে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।