চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র যত অভিযোগ


আপডেটের সময়ঃ জানুয়ারি ২৭, ২০২১


সম্পন্ন হওয়া চসিক নির্বাচন চলাকালে  আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী এম রেজাউল করিম ও বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ এই দুই দলের নেতারা সাংবাদিকদের স্ব স্ব বক্তব্যে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচনকে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।

বুধবার (২৭ জানুয়ারী) দুপুরে বহদ্দারহাটে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এমন অভিযোগ করেন তিনি। ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়েছি। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভোটাররা ভোট দিতে উৎসাহ নিয়ে কেন্দ্রে আসছেন। খুশি মনে ভোট দিচ্ছেন।  তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমাদের কাছে তথ্য আসছে। বিএনপির এতো ষড়যন্ত্রের পরও আমরা ভোটে রয়েছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে আমরা বিশ্বাসী।

ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বলেন, পুলিশ লাইন্স স্কুল কেন্দ্রে বিএনপির কর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে তানভীর ফয়সাল ইভানকে মারধর করেছে। চান্দগাঁওয়ে বিএনপির কর্মীরা আওয়ামী লীগের এজেন্টদের মারধর করেছে।  বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট না থাকা নিয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনে প্রোপাগান্ডা চালায়। নির্বাচনে তারা আসবেন না, কিন্তু ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখেন।  তবে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল।

এদিকে চসিক নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসার সামনে ভোর থেকে সন্ত্রাসীরা দাঁড়িয়ে আছে। ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের লাঞ্ছিত ও মারধর করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে বিএড কলেজের প্রশাসনিক কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি এসব অভিযোগ করেন। শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোটের আড়াই ঘণ্টা হয়ে গেছে। যে পরিস্থিতি দেখছি; তাতে ভোট হওয়া, আর না হওয়া একইকথা। আরেকটি ভোট ডাকাতির ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। নির্বাচন এখন নির্যাতন এবং প্রহসনে পরিণত হয়েছে। আমাকে বলে দিলেই হতো আপনার ভোট করার দরকার নাই। তাহলে আমি সরে যেতাম। এই তামাশার দরকার ছিল না। যে দেশের মানুষ ৯ মাসে দেশ স্বাধীন করেছে, তারা এই প্রহসন আর বেশি দিন মানবে না।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনি মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত দেখব। তাদের অমানবিকতা, নগ্নতা, পাষণ্ডতা শেষ পর্যন্ত দেখব এবং মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণকে দেখাব। তিনি বলেন, নির্বাচনের অনিয়ম বিশ্বকে দেখিয়ে দেবো। ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে, প্রশাসন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জেতাতে উঠেপড়ে লেগেছে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রত্যেক কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন কোনো সাহায্য সহযোগিতা করছে না।  তিনি বলেন, বিএড কলেজ কেন্দ্রে নারী এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে। তাদের কেন্দ্রে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। এতো অনিয়ম, তা আপনারা দেখছেন। ভোটের নামে এসব সন্ত্রাস বিশ্বকে দেখিয়ে দেবো। বিএনপির এজেন্ট সুমি আক্তার, শারমিন আক্তার ও নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের মারধর করা হয়েছে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি।

এছাড়া ডা. শাহাদাত দুপুরে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের বলেন,নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের উৎসাহী কর্মকর্তারা কীভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে দেবে এ চিন্তাই যেন তাদের মধ্যে কাজ করেছে। আমাদের এজেন্টদের যখন বের করে দিচ্ছিল তখন পুলিশ প্রশাসনের লোকজন কোনো কথাই বলেনি। তারা বলেছে আমরা কিছুই করতে পারব না। এ সময় তিনি বলেন, আমি শেষ পর্যন্ত আছি। কীভাবে তারা ভোট ডাকাতি করেছে তা সারা বিশ্বকে দেখাতে চাই আমরা। যদি ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু এবং সুন্দর থাকত তাহলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন বলে জানান তিনি।

চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আমি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখেছি। ব্যাপক জনসমাগম প্রমাণ করে মানুষের ভোট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ আছে। সকাল নয়টায় নগরীর বহদ্দারহাটে একলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ফলাফল যা-ই হোক, আমি মেনে নিতে প্রস্তুত। ভোটকেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিএনপি জনসমর্থনহীন দল। তারা বোমা সন্ত্রাস-অগ্নিসন্ত্রাস করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনবিচ্ছিন্ন দলের পক্ষে জনগণ সাড়া দেবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমরা কাউকে কোনো বাধা দিইনি। এর আগে সকালে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ভোট কেন্দ্রে আসেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পুরো চট্টগ্রাম আজ সন্ত্রাসের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেল ৫টায় নগরের নাসিমন ভবন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। আমীর খসরু বলেন, অন্তত একটি বিষয়ে আনন্দিত, সাংবাদিকরা কেউ আহত হননি। আপনাদের কেউ মারধর করেনি, এ জন্য আমি সন্তুষ্ট। আওয়ামী পুলিশ বাহিনী শতভাগের চেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে ভোট কারচুপি করতে।  তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য এখনও লড়াই করছে। ‘অনির্বাচিত’ সরকার মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করছে। আজকের নির্বাচনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি মামলা ও কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দুই-তিন দিনে পুরো চট্টগ্রাম সন্ত্রাসের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।খসরু বলেন, উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ভীতি প্রদর্শন, অন্যদিকে নগরের বাইরের লোকজন এনে ত্রাসের রাজত্ব করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।