চসিক’র নব নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ: নগরীকে মশামুক্ত করাই প্রথম কাজ


আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১


চট্টগ্রাম নগরীকে মশামুক্ত করাকেই প্রথম কাজ হিসেবে নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এ সময় তিনি সব শ্রেণিপেশার মানুষের পরামর্শ নিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে একটি মডেল শহরে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সোয়া ২টার দিকে নগরীর টাইগারপাস সংলগ্ন বাটালি হিল এলাকায় চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে গিয়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণকালে এসব কথা বলেন। এ সময় মেয়র জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্টজনেরা সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন।

এর আগে, নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের পরামর্শ শোনেন তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম আদর্শ শহরের মডেল হিসেবে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে কারও পরামর্শ নিতে সংকীর্ণতা নেই বলে উল্লেখ করেন মেয়র । রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,তার কথা ইশতেহারে বলে দিয়েছিন। অনেকে মনে করে, চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের। তিনি সেই পুরনো ধারণা ভেঙে দিতে চান । এ চট্টগ্রামে অনেক জ্ঞানী, সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ আছেন। তাদের মেধা তিনি কাজে লাগাতে চান। রাস্তার যানজট থেকে বিভিন্ন সমস্যা মেয়রের ওপর এসে পড়ে। এ শহর আমার আপনার সবার। তাই সবার সঙ্গে পরামর্শ করতে চান, মেধা কাজে লাগাতে চান। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চান। কারণ ব্যক্তির চিন্তা চেতনায় ভুল থাকতে পারে। সামষ্টিক চিন্তায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রথমে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলায় আনবো। মানুষ শান্তি চায়। ১০০ দিনে সব রাস্তা হয়ে যাবে তা আবেগের কথা। যান চলাচলের উপযুক্ত করার চেষ্টা করবো। যেকোনো মূল্যে খাল উদ্ধার করবো। পাঁচ বছরে শহর জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। আসুন চট্টগ্রামকে গড়ে তুলি।

সুধী সমাবেশে মন্ত্রী, হুইপ, সংসদ সদস্যসহ ৩০ জনেরও বেশি বক্তা বক্তব্য রাখেন। প্রায় সবাই বক্তব্যে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দেন এবং রেজাউলকেও একই পথ অনুসরণের তাগিদ দেন। ঠিক একবছর আগে এই দিনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন রেজাউল। মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার পর সংবর্ধনায় রেজাউল জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি মহিউদ্দিনের পথে চলবেন। তবে সুধী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রেজাউল মহিউদ্দিনের বিষয়ে কিছুই বলেননি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, চসিকের বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমূখ।

এছাড়া সুধী সমাবেশে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদে, চবি’র সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বিএমএম নেতা শেখ শফিউল আজম, আইইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, চসিকের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, জাসদ নেতা জসিম উদ্দিন বাবুল, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. হারুন, চুয়েট উপাচার্য ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিাচলক মো. ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ চক্রবর্তী, সিডিএ’র চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি আমরা এ শহরে চাই না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা চাই যিনি নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তার কাছে অপরাজনৈতিক শক্তি ও যারা সন্ত্রাস করে, তাদের স্থান হবে না। সন্ত্রাসমুক্ত খুন-খারাবিমুক্ত চট্টগ্রাম চাই।  নওফেল বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র ছিলেন। রেজাউল করিম চৌধুরী সবার মতামতের ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।  তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সবাইকে সাথে নিয়ে, সমন্বয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের আমাদের প্রতিযোগিতার প্রয়োজন নেই, বিবাদের প্রয়োজন নেই, বিরোধের প্রয়োজন নেই, সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এ শহরের সব নাগরিক, সব জনপ্রতিনিধি সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারি। মানুষের চাহিদা সীমিত। যদি সবাই সহযোগিতা করেন তাহলে শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ হবে। সংবর্ধনা নয় মতামত গ্রহণের জন্য সমাবেশের আয়োজন করেছেন নতুন মেয়র। সমন্বয় সুন্দরভাবে হলে নাগরিকরা সুবিধা পাবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ব্যাপক উন্নয়নকাজ উপহার দিয়েছেন। নগরপিতার মাধ্যমে এসব উন্নয়নের খবর মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবো।

সমাবেশ শেষে সরাসরি তিনি চসিকের কার্যালয়ে যান। সুধী সমাবেশ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মশার উপদ্রবে নগরবাসী অতীষ্ঠ। আমার প্রথম কাজ হবে মশা নিয়ন্ত্রণ। ১০০ দিনের মধ্যে নগরীর যেসব রাস্তায় খানাখন্দ আছে, সেগুলো সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করব। তবে সব রাস্তা ১০০ দিনের মধ্যে মেরামত করা সম্ভব হবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা আছে, সেগুলো দূর করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করব। রেজাউল বলেন, মানুষ একটু শান্তি চায়, সুন্দরভাবে বসবাস করতে চায়। আমি মানুষকে শান্তি ও স্বস্তির নগরী উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।