চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি


আপডেটের সময়ঃ অক্টোবর ৭, ২০২০


দেশে পেঁয়াজ সংকট  নিরসনে বুধবার পর্যন্ত  ব্যবসায়ীরা ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ৩৫১টি অনুমতিপত্র (আইপি) নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬ টন পেঁয়াজ আমদানি ও বন্দর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বিশ্বের ১২টি দেশের পেঁয়াজ আসা শুরু করবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এসব চালান দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব পেঁয়াজ দেশে ঢুকলে পেঁয়াজ দাম কমে খুচরা বাজারে ৪৩ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকার কথা অনুমান করা হচ্ছে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ৩৫১টি অনুমতিপত্র (আইপি) নিয়েছে। তারমধ্যে মিয়ানমার ও পাকিস্থান থেকে পেঁয়াজ এসেছে ১ হাজার ৬ টন পেঁয়াজ। তবে পাইপলাইনে আরও পেঁয়াজ আছে। উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ৩৫১টি অনুমতিপত্র নিয়েছে। এতে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা মোট ১২টি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে। দেশগুলো হলো- চীন, মিশর, তুরস্ক, মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্থান। এছাড়া ভারত থেকে ২০০ টন আনার অনুমতি নিয়েছে।

জানা গেছে, ভারতে পেঁয়াজের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার পর সরকার সব ধরণের পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বন্যায় এবার গ্রীস্মকালীন ফসল মার খাওয়ার পর সেখানে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশের বাজারে সংকট দেখা দেয়। ফলে গতবছরের মতো এবারও পেঁয়াজের দাম রাতারাতি বাড়তে শুরু করে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে মিয়ানমারের কয়েকটি চালান এসেছে। তবে বেশির ভাগ পেঁয়াজ মিশর ও নেদারল্যান্ডস থেকে আনার জন্য এলসি খোলা হয়েছে। বেশির ভাগ পেঁয়াজ অক্টোবরের শেষ দিকে এসে যাবে। সব মিলিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে দূরের দেশগুলোর পেঁয়াজ আসা শুরু হয়ে যাবে।

পেঁয়াজ আসার পর দাম কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমদানিকারকরা যে যেখানে পেঁয়াজ পেয়েছেন, এলসি খুলেছেন। কেউ প্রতি টন ৪৩০ ডলার, কেউ ৫০০ ডলার, কেউ ৫৪০ ডলার বা এর চেয়ে বেশি দামেও বুকিং দিয়েছেন। এই হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি খরচ ৪৩ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। তবে দামটা নির্ভর করবে আনার পথে কী পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে, তার ওপর। পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল পণ্য, সেহেতু আনার সময় কিছু পেঁয়াজ পচে যায়। তবে পেঁয়াজ আসার পরে বর্তমান বাজারের অস্থিরতা আর থাকবে না। তখন বাজার স্থিতিশীল হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।