চট্টগ্রামে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অস্থির ডালের বাজার


আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর ৬, ২০২০


চট্টগ্রামে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ডালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একই সাথে ডালের দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে সিন্ডিকেটটি।

শনি ও রোববার দুইদিন বৃহত্তম পাইকারী ডালের বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, পণ্যের সংকটের কথা বলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফায়দা নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করার দাবি জানালেন ভোক্তারা।

খাতুনগঞ্জ বাজার ঘুরে জানা গেছে, দুই মাস আগে যে সাদা মটর ডালের দাম কেজি ২৫ টাকা ছিল বর্তমানে তা ৮ টাকা বেড়ে ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মশুর ডালের ক্ষেত্রেও একই। মোটা মশুর ডাল দুইমাস আগে কেজিপ্রতি দাম ছিল ৫০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে কেজি ৬২ টাকা। অন্যান্য ডালের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা। মোটা মশুর ডাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৬২ টাকা, চিকন মশুর ডাল কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল (মানভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১২০ টাকা, মটর ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩৩ টাকা, চনার ডাল ৬৫ টাকা এবং ছোলা কেজি ৬১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকজন ব্যবসায়ী ডালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। অর্থাৎ, সাদা মটরের আমদানি মূল্য ৩০০ ডলার (আগস্ট ২০২০) প্রতিটন। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৫ হাজার ৫০০ টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকায়)। এর সাথে ভ্যাট, কাস্টম ক্লিয়ারেন্স, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিটন। প্রতিকেজির মূূল্য হয় ২৭ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু আমদানিকারকরা পাইকারিতে বর্তমানে বিক্রি করছেন ৩৩ টাকা ২০ পয়সা প্রতিকেজি। যা কেজিতে ৫ টাকা ৭০ পয়সা বেশি।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জের পায়েল ট্রেডার্স, অর্পিতা ট্রেডার্স, আয়েশা কর্পোরেশন, সালমা ট্রেডিং, এফএম ট্রেডিং, কাশেম ট্রেডিং, খাজা মঈনুদ্দিন ট্রেডার্স ডাল আমদানি করে পাইকারিতে সরবরাহ করে। এদের মধ্যে পায়েল ট্রেডার্স ডাল স্টক রেখে দাম বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠায় পায়েল ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারি আশুতোষ মহাজন বলেন, ডাল স্টক করার বিষয়টি সঠিক নয়। বর্তমানে ডাল নিয়ে লোকসানে আছি, ব্যবসা বাণিজ্য খুবই খারাপ। আপনি দোকানে আসুন, সব বিষয় বুঝিয়ে বলবো।

এদিকে  ডালের দাম বৃদ্ধি মানতে নারাজ ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দে বলেন, ডালের দাম মাঝখানে বাড়লেও গত সপ্তাহ থেকে কমেছে। আর বাজারে যেসব ডাল রয়েছে তা আগের আমদানি করা। নতুন শিপমেন্টের ডাল এখনো আসেনি।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে এখন ডালের চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই ডালের দামও কমে যাচ্ছে। মাঝখানে একটু বেড়েছিল, তবে এখন কমেছে।

ভোক্তা মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, প্রতিনিয়ত কোন না কোন পণ্যের ক্ষেত্রে সংকটের কথা বলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাজার থেকে ফায়দা লুটছে। এর জন্য প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন জানান, মানুষকে জিম্মি করে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সংকট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, খাদ্য অফিস বাজার তদারকি যথাযথভাবে না করে ব্যবসায়ীদেরকে পকেট কাটার সুযোগ করে দিচ্ছে। দেশের সিংহভাগ ভোগ্যপণ্য যেহেতু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়, সে কারণে চট্টগ্রামে যদি ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয় তবে পুরো দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে যাবে। কাজেই দ্রুত বাজার তদারকি জোরদারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ডালের বাজারে অস্থিরতার কারণ জানতে চাইলে আমদানিকারক প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে লজিস্টিক সমস্যার কারণে ডাল দেশে আসতে পারছে না। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ থেকে শিপমেন্ট এখন খুবই কম হচ্ছে। তাই বাজারে চাহিদার তুলনায় ডালের মজুত কম। ফলে দামও বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।