চট্টগ্রামে সরগরম অলিগলির ইফতারির বাজার: মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব


আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ১৮, ২০২১


বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে সরকার ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী লকডাউনে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অলিগলির হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো মানছে না কোনো নিয়ম। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বেশিরভাগ ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এছাড়া মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক হলেও অনেক বিক্রেতার মুখেই ছিল না মাস্ক। শুধু বিক্রেতাই নয়, এমন চিত্র অনেক ক্রেতার মধ্যেও দেখা যায়। দুপুর হতেই নগরীর প্রায় সব এলাকায় অলিগলির মুখে ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসে দোকানীরা। শুধু তারাই নয়, বিভিন্ন কলোনির মোড, সড়কের মুখে টেবিল সাজিয়ে তৈরি করা ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেন সিজনাল ব্যবসায়ীরাও। এভাবেই দুপুর দুইটা থেকে নগরীর অলিগলিতে হরেক রকম ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বিকেল তিনটার পর থেকেই এসব ইফতারের দোকানগুলোয় ক্রেতাদেরও বেশ ভিড় জমে।

রোববার নগরীর চকবাজার এলাকার বিভিন্ন সড়কের মোড়, অলিগলিতে এমন দৃশ্য অহরহ দেখা গেছে। দুপুর থেকেই জমজমাট অলিগলির মুখগুলো। বেড়ে যায় মানুষের আনাগোনাও। চকবাজার বি এড কলেজ, ফুলতলা, ডিসি রোড, কাপাসগোলা, চক মালঞ্চসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থিত হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ কিছু ভাসমান দোকানে দেখা যায় তৈরি করা ইফতার সামগ্রী বিক্রি করতে।

চকবাজারের অস্থায়ি বাসিন্দা নাজিম খন্দকার বলেন, আমি একটি ব্যাংকে চাকরি করি। ঘরে মা-বাবা আর একটা ছোট বোন আছে। মা তেমন কাজ করতে পারে না। তাই শুধু ছোলা ঘরে তৈরি করে। বাকি সব কিছু দোকান থেকে কিনে নিয়ে যাই। যদি এ দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে যায় তবে আমরা যারা ঘরে তৈরি করতে পারি না তাদের কষ্ট হবে।   ফুলতলার ভাসমান দোকানি মো. মনির বলেন, আমার বাড়ি নোয়াখালী। ১৬ বছর ধরে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে আছি। আমি সিআরবি, ডিসিহিলসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতাম। স্কুল-কলেজতো বন্ধ। কিন্তু বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এতোদিন কাজ করেছিলাম। এখন সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আমি রমজান মাসে ঘরের তৈরি করা ইফতার সামগ্রী রাস্তার  মোড়ে বিক্রি করি। এবারও তাই করছি। কিন্তু এবার তেমন বেচা বিক্রি নেই। কারণ শহরে মানুষ কমে গেছে। করোনা ঝুঁকির বিষয় তিনি বলেন, করোনায় ঘরে বসে থাকলেতো আর সংসার চলবে না। কিছু করে খেয়ে পড়ে বাঁচতেতো হবে। মুখে মাস্ক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সারাদিন মুখে মাস্ক পড়ে থাকতে পারি না। নিঃশ্বাস নিতে পারি না। তাই খুলে রেখেছি। তবে মানুষ দেখলে আমি মাস্ক পড়ি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।