চট্টগ্রামে লকডাউনে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী


আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ১৫, ২০২১


সরকার ঘোষিত ৮ দিনের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার নগরজুড়ে দেখা গেছে নিরবতা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গুটিকয়েক রিকশা চলাচল করছে সড়কে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। অবশ্য শিল্প কারখানা খোলা থাকায় গার্মেন্টস কর্মীদের কাজে যেতে হচ্ছে। লেনদেনের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে ব্যাংকও।  করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন ঘোষণার দিনও প্রধান সড়ক থেকে অলিতে গলিতে মানুষের বিচরণ দেখা গেছে। প্রধান সড়কে তুলনামূলক কম জনসমাগম হলেও অলিতে গলিতে যথেষ্ট মানুষের দেখা মিলিছে। এরকম বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩৩টি মামলার বিপরীতে ১৯ হাজার ৩০ টাকা জরিমানা করেছেন।

চট্টগ্রাম থেকে চলমান কন্টেনার ও খাদ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি গত বুধবার  থেকে চলছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি নিয়মিত কন্টেইনার ও খাদ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। আগে যেখানে একটি কন্টেইনারবাহী ট্রেন ঢাকায় যেতে ২৫ ঘণ্টা লাগতো, এখন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ১২ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি পার্সেল ট্রেনও চলাচল শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি পণ্যও পরিবহন করবে ট্রেনটি। তবে চট্টগ্রামে লকডাউনে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যদের বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এদিকে লকডাউনের নির্দেশনা প্রতিপালনে তদারকি, মাস্ক পরা নিশ্চিতকরণে গত বুধবার নগরের পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, চকবাজার, খুলশী, বায়েজিদ, চান্দগাঁও পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা ও জরিমানা করা হয়। এসময় ৫ হাজার মাস্কও বিতরণ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান মেহেবুব পাঁচলাইশ, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বিনতে আমিন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক খুলশী, বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জনসাধারণকে সচেতন করেন এবং মাস্ক বিতরণ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হাসান পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর এলাকায় ৩টি মামলা দায়ের করে ৩ হাজার ৭০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা জান্নাত কোতোয়ালী, সদরঘাট ও ডবলমুরিং এলাকায়  ৫টি মামলায় ১ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান একই এলাকায় ৩টি মামলা দায়ের করে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।  অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা পাহাড়তলী, হালিশহর ও আকবরশাহ এলাকায় ৩টি মামলা দায়ের করে ১ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম বাকলিয়া এলাকায় ৩টি মামলায় ২ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক পাহাড়তলী, হালিশহর ও আকবরশাহ এলাকায় ৩টি মামলায় ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিল্লুর রহমান পতেঙ্গা, ইপিজেড ও বন্দর এলাকায় ১৩টি মামলায় ৫ হাজার ১৩০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।  এছাড়া লকডাউন সফল করার লক্ষ্যে সন্ধ্যার পর থেকে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও প্লাবন কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।