চট্টগ্রামে মাস্ক না পরায় জরিমানা গুনল ৮০ জন


আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর ১৮, ২০২০


ঘরের বাইরে যাওয়া প্রত্যেকের মুখে মাস্ক নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বলা হলেও অধিকাংশ মানুষ তা মানছে না। ফলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনকেও কঠোরভাবে আটক ও জরিমানা দিয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ লক্ষে নগরীর জনসমাগম পূর্ণ এলাকায় নগরবাসীর মাস্ক নিশ্চিত করতে পৃথক আটটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নগরীর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে মাস্ক পরিধানে সচেতনতা নিশ্চিত করতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বুধবার (১৮ নভেম্বর)  মুখে মাস্ক না পরায় চট্টগ্রামে ৮০ জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নগরের কোতোয়ালী, নিউ মার্কেট, জামাল খান, জিইসি এবং দামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, রেজওয়ানা আফরিন এবং নুরজাহান আক্তার সাথী।

ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারক নগরের কোতোয়ালী এবং নিউ মার্কেট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি মাস্ক না পরায় ৫৩ জনকে ৯ হাজার ৩৩০ টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন নগরের জামাল খান এবং জিইসি মোড় এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি মাস্ক না পরায় ২০ জনকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

নগরের দামপাড়া এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরজাহান আক্তার সাথী। তিনি মাস্ক না পরায় ৭ জনকে ৪৭০ টাকা জরিমানা করেন। মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রসঙ্গে মাঠ পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাওয়া হয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী বলেন, মানুষ একদমই সচেতন নন। অধিকাংশ মানুষ সাথে মাস্ক রাখলেও মাস্ক পরিধান করছে হাতেগোনা কয়েকজন। ছবি তোলার জন্য কিংবা খাবার জন্য; এমন আরো নানা অজুহাতে মানুষ মাস্ক পরিধান করছে না। তারা কেউ বোঝার চেষ্টা করছে না যে, করোনা এসব অজুহাত ও অসর্তকতা বুঝবে না। তাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাস্ক ছাড়া যাদের পেয়েছে তাদেরকে জরিমানা  এবং মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

সচেতনতা সৃষ্টিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলা হয় জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, আমরা নগরীর সব এলাকায় মাইকিং করেছি। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ এখনো চলমান আছে। এছাড়াও আমরা নগরীতে ২ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছি। একইভাবে গ্রাম পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা নগরীসহ গ্রামের প্রতিটি মানুষের জন্য মাস্ক নিশ্চিত করতে চাই। করোনায় দ্বিতীয় ওয়েব ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। মানুষকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তা না হলে মানুষ নিজেদের আক্রান্ত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও আক্রান্ত করে মত্যুঝুঁকিতে ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা জনস্বাস্থ্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, আসলে আটক-জরিমানা করে কাউকে সচেতন করা যাবে না। সবাইকে নিজ থেকে সচেতন হতে হবে। কেননা করোনার প্রথম ধাক্কায় কতজন আক্রান্ত হয়ে ভুগেছে, কতজন মারা গেছে তা সবাই দেখেছে। এখন বাইরের দেশগুলোর দিকে দেখলে বুঝা যাচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা কোন পর্যায়ে যাচ্ছে। তাই নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। নতুবা এর ভয়াবহতা আমাদের সবাই জানার পরেও এর ফল ভোগ করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।