চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনার প্রকোপ, আক্রান্ত ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে


আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর ২৪, ২০২০


সারা দেশের ন্যায় বন্দর নগরীতে শীতের প্রকোপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ আবারও বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টারগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ব্যাপকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার তাগিদ দিয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ১৮৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে  সোমবার সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৪২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে নগরীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের  সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪ হাজার ৫৩ জন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে কোন আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়নি।

শনাক্তের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের প্রধান বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গতকাল রোগী ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন। এর মধ্যে সাতজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। অথচ একমাস আগেও এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ২০ জনের মধ্যে থাকতো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রোববার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আটটি ল্যাবে ১ হাজার ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নগরীর ২০০ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ৪২ জন বাসিন্দার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে ১৬২ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী। আগের দিন শনিবার আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ১৪৫ জন। আক্রান্তের হার ছিল সাড়ে ১৩ শতাংশ। মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে। গত রোববার ২৪ ঘণ্টায় এক লাফে সংক্রমণ প্রায় ২০ শতাংশ ছুঁয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ ১০ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ হয়েছে।

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ৮টি ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ৩৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৫৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ল্যাবে ৪৯২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮০ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে ৫২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ল্যাবে ১০৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৯ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবে ৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ল্যাবে ২০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এছাড়া জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ০ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়। নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১৫৫ জন নগরের ও ২৮ জন অন্যান্য উপজেলার বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, শীত মৌসুম শুরু হলে করোনার প্রকোপ বাড়বে এমন আশঙ্কা আমাদের ছিল। সেটাই সত্যি হচ্ছে। করোনার অতিমারী অর্থাৎ গত মে-জুন মাসে দিনে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শনাক্ত হতো। নভেম্বরের শুরুর দিকেও শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে ছিল। এখন তা ঊর্ধ্বমুখী।

আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গরম এবং বৃষ্টির দিনে মানুষের জটলা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আড্ডা দিলেও মানুষের মধ্যে দূরত্ব বজায় থাকে। কিন্তু শীতকালে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব রক্ষা হয় না, জটলাও দীর্ঘস্থায়ী হয়। আরেকটা বিষয় হচ্ছে- আমাদের দেশে প্রচলিত একটা রীতি হচ্ছে শীতকালেই বিয়ে শাদি, সামাজিক অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, পূজাপার্বণ বেশি হয়। সেখানে লোকসমাগমও হয় বেশি। এবারও হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে বছরের শুরুতে সংক্রমণের হার বেশি ছিল, সেসব দেশে তখন শীতকাল ছিল। সেই বিবেচনায় আমরাও ধরে নিয়েছিলাম, শীত এলে সংক্রমণ বাড়বে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে জনসাধারণের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়। প্রেস বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গত জুলাই থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘মাস্ক নাই তো সেবা নাই’ কর্মসূচি শুরু করেছে। বাসার বাইরে সবার মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে জনসচেতনতায় বহুমাত্রিক প্রচার-প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত হয়নি। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে সংক্রমণের শঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে  করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত প্রতিরোধে আপামর জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পড়ে বের হতে হবে। যেকোন ধরণের জটলা,জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল সেবা সংস্থাকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আপামর জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পড়তে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।