চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ রাইজার পরীক্ষার টার্গেট ১ লাখ ৪৫ হাজার: মাঠে ১২ টিম


আপডেটের সময়ঃ অক্টোবর ২২, ২০২০


চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ রাইজার নিয়ে আতংকে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক। বন্দর নগরীতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সরবরাহ গ্যাস লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ রাইজার বিস্ফোরণ নিয়ে গ্রাহকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। গত বছরের  ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের বড়ুয়া ভবনের নিচতলায় গ্যাস বিস্ফোরণে সাতজন নিহত ও ১০ জন আহতের ঘটনার পর পরই অগ্নিকান্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা এড়াতে কেজিডিসিএল গ্যাস রাইজার মেরামতের জন্য নগরের প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার গ্যাস রাইজার বিনামূল্যে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সাথে মেরামতেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্যাস রাইজার পরীক্ষার জন্য শতাধিক প্রকৌশলী ও ৪০ জন রিপেয়ারম্যানের সমন্বয়ে ৩০টি টিমও গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু কিছুদিন কাজ করার পর করোনা পরিস্থিতিতে আর এগোয়নি। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাসের লাইনে লিকেজের অভিযোগ ওঠার পর সারা দেশে সব গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে গ্যাস লাইন ও রাইজার পরীক্ষার নির্দেশ দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন ও রাইজার পরীক্ষার জন্য ১২টি টিম গঠন করে এ অভিযান পরিচালনা করছে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৫টি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন আছে। গত তিন বছরে চট্টগ্রাম নগরে অন্তত পাঁচ দফা গ্যাসজনিত বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছেন ১২ জন। নগরের পাথরঘাটার ব্রিক ফিল্ড রোডের ঘটনা ছাড়া অন্য চারটির কোনোটিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করেনি কেজিডিসিএল। তড়িঘড়ি করে ঐ দিন (গত বছরের ১৭ নভেম্বর) সকালে তদন্ত কমিটি গঠন করে সন্ধ্যায় প্রতিবেদন দেয় কেজিডিসিএল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয় গ্যাস লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল না এবং গ্যাসের লাইন থেকে বিস্ফোরণটি হয়নি। কিন্তু জেলা প্রশাসনের তদন্ত  প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।

কেডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে সাড়ে পাঁচ মাস অভিযান বন্ধ থাকার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে নামে কেজিডিসিএল। কোম্পানির আওতাধীন ১২টি জোনে চারটি বিশেষ টিম গ্যাস লাইন ও রাইজারের ত্রুটি সরেজমিন পরীক্ষা করে আসছে। তবে অবৈধ গ্যাস লাইন ও রাইজারের ত্রুটি পরীক্ষায় মাঠে নেমে দেড় মাসে এক হাজার ২২৭টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময়ে জরিমানা ও বকেয়াসহ ২২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আদায় করা হয়।

কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেড় মাসে কেজিডিসিএলের বিশেষ টিম ২০৪টি অভিযান পরিচালনা করে। আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প/ক্যাপটিভ, সিএনজি/ক্যাপটিভে ৭ হাজার ১২৯টি সংযোগ পরিদর্শন করে অবৈধ ১ হাজার ২২৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরমধ্যে আবাসিকে ১ হাজার ১৬৭টি, বাণিজ্যিকে ৪৮টি, শিল্প এলাকায় ১১টি ও সিএনজি স্টেশনে একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আবাসিকে ১ হাজার ১টি সংযোগের বিচ্ছিন্ন করা হয় বকেয়ার কারণে, অবৈধ সংযোগ নেওয়ার কারণে ১৩৩টি, গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকার কারণে ১২টি, আবদ্ধ/ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কারণে ২১টি রাইজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।  এছাড়া বাণিজ্যিক এলাকায় বকেয়া থাকায় ৩৭টি, অবৈধ সংযোগ থাকায় ৭টি, লিকেজ থাকায় ২টি, ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ২টি রাইজার বিচ্ছিন্ন করা হয়। শিল্প ও সিএনজি স্টেশনে বকেয়া থাকায় ১২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবুল কালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

কেজিডিসিএল’র প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম পর্যায়ে লাগানো প্রায় ৬০ লাখ প্রিপেইড মিটার সংযোজনে অভাবনীয় সাফল্যে এসেছে। এর ফলে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য বাধ্য হয়ে অপ্রয়োজনে গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখছেন গ্রাহক।  অন্যদিকে চুলা বন্ধ থাকার পরও লাগানো প্রিপেইড মিটার ঘুরে দ্রæত টাকা ফুরিয়ে আসলে গ্রাহক সহজেই বুঝে নিতে পারছেন লাইনে কোথাও লিকেজ আছে।  আর এই লিকেজ সারাতে যোগাযোগ করছেন সংশ্লিষ্টদের সাথে। সেই সাথে প্রতি বার্নারের (চুলা) জন্য পৃথক জিআই লাইন হওয়ার কারণে সহজেই লাইনের লিকেজ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন পুরো চট্টগ্রামের গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা গেলে একদমই কমে যাবে গ্যাস লাইন লিকেজ জনিত বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা। গ্যাসের অপচয়ও রোধ হবে। কর্মকর্তারা জানান,  চিহ্নিত হওয়া  লিকেজ সাথে সাথে মেরামতেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি কেজিডিসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন। গণমাধ্যমে কথা বলার বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষের জানমাল রক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনা তো আছেই । আশা করছি ধীরে ধীরে গ্যাসজনিত সৃষ্ট দূর্ঘটনা শূণ্যের কৌটায় নামিয়ে আনতে পারবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।