চট্টগ্রামে করোনার টিকা পেতে রাস্তায় নেমেছে প্রবাসীরা

টিকা নিশ্চিতের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

আপডেটের সময়ঃ জুন ২৩, ২০২১

বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে দেশে ছুটি কাটাতে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের কোভিড-১৯ টিকার দুই ডোজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার নগরের আগ্রাবাদের জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদারের হাতে স্মারকলিপি দেন তারা।

দেশের রেমিট্যান্স আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রবাসীদের মহামারি করোনা ফেলে দিয়েছে কঠিন বিপদে। বিদেশ পাড়ি দিতে হলে তাদের বাধ্যতামূলক প্রয়োজন ভ্যাকসিন সনদ। আর ভ্যাকসিন সনদের জন্য টিকা। এই টিকা নিয়েই বেধেছে যত বিপত্তি। টিকার জন্য অপেক্ষা করতে করতে কারো পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরোচ্ছে, আবার কারো ভিসার। আবার কেউ কেউ পাড়ি জমাতে পারছেন না বিদেশে। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে প্রবাসীদের টিকা দিতে হয়রানি বন্ধ করে সহজীকরণ করে যাবতীয় নির্দেশনা দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনও করেছে প্রবাসীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আগ্রাবাদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে এই মানববন্ধনে প্রায় দুই হাজার প্রবাসী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার প্রবাসীদের টিকা দিচ্ছে। অথচ আমরা ঠিকমত টিকাগুলা পাচ্ছি না। প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গেলে তারা আমাদেরকে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে যেতে বলে। সেখানে গেলে তারা বলছে টিকার জন্য চেষ্টা চলছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের এসব হয়রানিমূলক কর্মকান্ডের ফলে অনেক প্রবাসীর ভিসা ও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকের চাকরি চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগ থেকে যদি এ্যাপসটা খুলে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা টিকার নিবন্ধনটা করতে পারতাম। এখন এ্যাপসটাও বন্ধ রয়েছে। আমাদেরকে দুটা টিকা নিয়ে সার্টিফিকেটটা নিশ্চিত করতে হবে। তাই আমরা আজ প্রায় দুই হাজার প্রবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। তবে আমরা এখনও পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোন সমাধান বা সিদ্ধান্ত পাইনি।

পরবর্তীতে আর কোন কর্মসূচি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আজকে বিকালে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবরেও স্মারকলিপি দিয়েছি। এরপরও যদি কোন সমাধান না আসে তাহলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

এদিকে প্রবাসীদের দেয়া স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি রয়েছে- সুরক্ষা অ্যাপ চালু করে প্রবাসীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকলে পাসপোর্ট  ও বৈধ ভিসার ভিত্তিতে নিবন্ধন এবং জরুরি ভিত্তিতে দুই ডোজ টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে- কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে বিদেশগামী প্রবাসীদের ৩ নম্বরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৩ দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে যোগাযোগ করেও প্রবাসীরা টিকার বিষয়ে সমাধান পাচ্ছি না। প্রবাসীরা জটিলতা ছাড়া কোভিড টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্মারকলিপি দেন দুবাই প্রবাসী ইয়াসিন চৌধুরী, মো. নেওয়াজ, রেজাউল করিম, মো. রুবেল প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।