চট্টগ্রামে অগ্নিকান্ড: এক বৃদ্ধার মৃত্যু, ৬ জনকে পাঠানো হলো ঢাকায়


আপডেটের সময়ঃ নভেম্বর ৯, ২০২০


চট্টগ্রামে ছেলের বাসায় ভালো চিকিৎসা নিতে ফেনী থেকে আসেন পেয়ারা বেগম (৬৫)। তবে চিকিৎসা নেওয়ার ও দেওয়ার সেই সুযোগও দেননি এ বৃদ্ধা মা। নগরীর কাট্টলীর অগ্নিকান্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়ে মত্যুর সঙ্গে ১২ ঘণ্টা লড়ে হার মানলেন তিনি।

সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান পেয়ারা বেগম।

এর আগে রোববার মধ্যরাতে নগরীর উত্তর কাট্টলীর মুরাদ চৌধুরীর মালিকানাধীন মরিয়ম ভবনের ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের  ঘটনায় দগ্ধ হন পরিবারের আরও ৭ সদস্যসহ ৯ জন। বৃদ্ধা পেয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়েছিল। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান পেয়ারা বেগম। এছাড়া দগ্ধ মিজানুর রহমান ও সাইফুল ইসলামের অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাদেরসহ আরো ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ওই বৃদ্ধা মারা যাওয়ার বিষয়ে  সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, দগ্ধ পেয়ারা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আরও ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

কাট্টলীর মরিয়ম ভবন পরিদর্শন করেছেন সিএমপি, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ। অন্যদিকে সাড়ে ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের দেখতে যান জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন  জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এ অগ্নিকান্ডের পেছনে কারও দায় থাকলে- তদন্তে সেটা উঠে আসবে। তদন্তে কারও গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তার সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার রাজিব হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ৫ মাস আগে মরিয়ম ভবনের ৬ তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন মিজানুর রহমান। তার সম্পর্কে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও তেমন বেশি কিছু জানেনা। গত রোববার রাতের অগ্নিকান্ডের বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় মুদির দোকানদার জানান, রোববার রাত ৯টার পর ৬ তলার মিজানুর রহমানের ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। আগুনের কুন্ডলি জানালার কাঁচ ভেঙে বাইরে বের হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশা করে সবাইকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মূলত সিলিং ফ্যানের শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস বিষয়টি তদন্ত করছে।

দগ্ধরা হলেন- মিজানুর রহমান (৪২), পেয়ারা বেগম (৬৫), সাইফুল ইসলাম (২৫), বিবি সুলতানা (৩৬), মানহা (২), মাহের (৮), রিয়াজ (২২), জাহান (২১) ও সুমাইয়া (১৮)। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে তিনজনের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।