গণপরিবহন শূন্য চট্টগ্রাম নগরীতে রিকশার রাজত্ব: ১২ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে

রিকশা-প্রাইভেটকার ছাড়া সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ

আপডেটের সময়ঃ জুন ২৮, ২০২১

সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া লকডাউনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে রিকশা-প্রাইভেটকার ছাড়া সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে খোলা রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এতে অফিসগামী চাকরিজীবীরা পড়েছেন বিপাকে। কেউ হেঁটে আবার কাউকে প্রচলিত রিকশা ভাড়ার তিনগুণ দিয়ে পৌঁছতে হচ্ছে গন্তব্যে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সারা দেশের ন্যায় সোমবার থেকে শুরু হল টানা ১০ দিনের লকডাউন। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কড়া লকডাউনের ঘোষণা থাকলেও শুরুর দিনেই দায়িত্বশীল অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে দেখা গেছে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর পুলিশ। রাস্তায় গাড়ি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন গার্মেন্টস ও নির্মাণশ্রমিকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তায় ফাঁকা রিকশা পাওয়ায়ই যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণপরিবহন না থাকায় কোনো রিকশা এলেই অপেক্ষারত যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এর সুযোগ নিচ্ছেন রিকশা চালকরাও। চেয়ে বসছেন কয়েকগুণ ভাড়া। নিরুপায় হয়ে তাতেই চড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে এতো বেশি ভাড়া দিয়ে যাদের রিকশায় চড়ার সামর্থ্য নেই তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। শেষমেষ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন পায়ে হেঁটেই।

সরেজমিনে সকাল ৮টা থেকে নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি, চকবাজার, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত অগণতি মানুষের ভিড় দেখা যায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই অফিসগামী। রিকশাচালকদের দাপটে অনেকটা অসহায় সবাই। গন্তব্য একই স্থানে হওয়ায় অনেককে ভাড়া ভাগাভাগি করেও রিকশায় উঠতে দেখা গেছে।কেউ কেউ পণ্য পরিবহনের ভ্যান ও মালবাহী পিকআপে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন অফিসে যাওয়ার জন্য। আবার অনেকে প্রাইভেটকার দেখলেই চেষ্টা করেছেন রাইড নেওয়ার।

অফিসগামী এসব যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সংক্রমণ রোধে সরকার গণপরিবহন বন্ধ করে লকডাউন ঘোষণা করেছে কিন্তু অফিস-আদালত ঠিকই খোলা রেখেছে। এ কারণে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চাকরিজীবীদের।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নগরের রাহাত্তারপুল এলাকা থেকে পায়ে হেঁটে এসেছেন বহদ্দারহাট মোড়ে। তার গন্তব্যস্থল আগ্রাবাদ বাদামতলী। তিনি বলেন, সরকার অফিস বন্ধ করেনি কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ করেছে। এমনটা করে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর কথা বললেও দুর্ভোগ শতগুণে বেড়েছে। হাজার হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই?’

সকালে সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, নগরের দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, লালখান বাজার, ওয়াসা, জিইসি মোড় ও ২ নম্বর গেট এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। গণপরিবহন না থাকায় সকাল থেকেই ফাঁকা সড়কে তেজী ঘোড়ার মত ছুটছে রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেটকার। নগরের টিকিট কাউন্টারগুলোও ছিল বন্ধ। রাস্তার পাশে নেই ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে নেই ক্রেতাদের আনাগোনা। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় শুধু খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করা যাচ্ছে। বসে খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানেও ছিল না ক্রেতার উপস্থিতি। ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে চালু হলেও গ্রাহক সংখ্যা কম থাকায় ছিল না তেমন লেনদেনের চাপ। তবে ব্যাংকগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, এমনটা জানালেন একাধিক কর্মকর্তা।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রমও চলছে সীমিতভাবে। নগরের সড়কগুলোতে ছিল পুলিশের কড়া পাহারা। মুভমেন্ট পাস ছাড়া যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদেরকে জরিমানা করতে দেখা গেছে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। এদিকে সড়ক ফাঁকা থাকলেও মানুষজনের কমতি ছিল না নগরের অলি-গলিতে। সেখানে বাজার, দোকান সব খোলা থাকায়, ভীড়ও ছিল ঢের। চা দোকানে আড্ডায়ও মেতে উঠেছেন অনেকে, ছিল না মুখে মাস্ক বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। অলি-গলিতে পুলিশ টহল দিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি ফের আগের রূপ ধারণ করছে।

নগরের মিস্ত্রীপাড়া এলাকার মুদি দোকানী শিকদার হোসেন বলেন, সকাল থেকে দোকানে ভীড় ছিল ক্রেতাদের। বৃহস্পতিবার থেকে সব বন্ধ হয়ে যাবে এমন ভয়ে সবাই বাজার-সদাই সেরে নিচ্ছেন। আমারাও বাধ্য হয়ে দোকান খোলা রাখছি। পরিবার তো চালাতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক বলেন, লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। আজকে (গতকাল) লকডাউনের প্রথম দিনে দুই শিফটে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম শিফটের ৬ জন কর্মকর্তা বিকাল ৪টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এভাবে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলেই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।