কোকেন মামলা: শেষ হলো ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ


আপডেটের সময়ঃ মার্চ ১৫, ২০২১


চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন জব্দের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সর্বমোট ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন জব্দের ঘটনায় দায়ের হওয়া এই মামলায় সর্বশেষ আরও দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার (১৪ মার্চ) দুপুরে চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন চট্টগ্রাম বন্দরের পার্সোনাল অফিসার আলতাফ হোসেন ও জব্দ তালিকার আরেক সাক্ষী রিয়াজ উদ্দিন খান। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ মার্চ সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আলোচিত এ মামলার ১০ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল ও মেহেদী আলম। বাকিদের মধ্যে খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহম্মদসহ ৪ জন পলাতক ও ৪ জন জামিনে আছেন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ জুন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরপর ২৭ জুন তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়। বলিভিয়া থেকে আসা চালানটির প্রতিটি ড্রামে ১৮৫ কেজি করে সূর্যমুখী তেল ছিল। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও থেকে জাহাজীকরণ করা হয়। পরে তা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ এর আগে কখনোই বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী ভোজ্য তেল আমদানি করেনি। তাছাড়া, তরল কোকেনকে গুঁড়া বা পাউডার কোকেনে রূপান্তর করার মতো প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে নেই।কোকেন জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের বন্দর থানায় ২০১৫ সালের ২৭ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান আইনের ধারায় একটি মামলা হয়। আসামি করা হয় চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে।

আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার পাঁচ মাস পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ নূর মোহাম্মদকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আটজনকে আসামি করে আদালতে মাদক আইনে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে চোরাচালান আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দুটিতে চালানের গন্তব্য অজানা, আন্তর্জাতিক চক্র শনাক্ত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত র‌্যাবকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু র‌্যাবের তদন্তেও চালানটির গন্তব্য বের করা সম্ভব হয়নি। র‌্যাব নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল আদালতে মাদক আইনে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত তা গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। মামলাটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড.মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে জব্দ হওয়া কোকেন জব্দের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। যেহেতু আলতাফ হোসেনের সামনে কন্টেইনার ও ড্রাম খুলে আলামত সংগ্রহ এবং সিলগালা করা হয়েছে, সেহেতু তিনি এ মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী। তাছাড়া রিয়াজ উদ্দিন খান নামের একজন সাক্ষী দিয়েছেন। তিনিও একটি জব্দ তালিকার সাক্ষী। ঘটনার সময় তিনি কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইন্সের কর্মরত ছিলেন। তিনি কোকেন মামলার আসামিদের আদান প্রদান করা ই-মেইল ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট জব্দ করার বিষয়ে সাক্ষী দেন।

কোকেন মামলায় অভিযুক্ত ১০ জন হলেন- আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহম্মদ, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপক এ কে এম আজাদ, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, লন্ডন প্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের বকুল মিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।