করোনাকালে বৈশাখী পোশাকে সাড়া নেই ক্রেতার, ক্ষতির মুখে ফ্যাশন হাউজগুলো


আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ১১, ২০২১


বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে বৈশাখের আবহ নেই চট্টগ্রামে। এ অবস্থায় ফ্যাশন হাউজ ও বিপনী বিতানগুলো মুখ থুবড়ে বসে আছে।  তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেশ ভিড় ছিল নগরীর শপিংমলগুলোতে। অনেকে কেনাকাটা করছেন। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়- এ সুযোগেই ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনেকে, বৈশাখের নয়। মলে ভিড় হলেও দেশীয় পোশাকের দোকানগুলো ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। কিন্তু জনমনে নেই বৈশাখের ছোঁয়া। করোনা পরিস্থিতিতে শুধু বৈশাখকে কেন্দ্র করেই দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানান ‘দেশীদশ’ চট্টগ্রাম শাখার এডমিন।

নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, নারী ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক কেনাকাটায় বেশ ব্যস্ত। দোকানিরাও যেন হাতছাড়া করতে চাইছে না ক্রেতাদের। ক্রেতা-বিক্রেতার কথোপকথনের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পোশাক। করোনা পরিস্থিতিতেও বেশ জমজমাট শপিংমলগুলো। কিন্তু বৈশাখী পোশাকের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। প্রায় প্রতিটি পোশাকই কেনা হচ্ছে ঈদকে কেন্দ্র করে।

আফমি প্লাজায় চৌধুরী নিগার সুলতানা নামের এক গৃহিনী বলেন, আমার বাড়ি পাহাড়তলীতে। আজকে কেনাকাটা করতে এসেছি। আমার বড় মেয়েকে জানুয়ারিতে বিয়ে দিয়েছি। তাই এ বছর তার শ্বশুরবাড়িতে ঈদের পোশাক পাঠাতে হবে। সেজন্য শপিংমল খোলার সাথে সাথেই শপিং করছি। তিনি বলেন এবার বৈশাখ নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই যা অন্যান্য বছর ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে কিসের বৈশাখ কিংবা ঈদ। একই কথা বলেন দেশীদশের আরো দুই ক্রেতা। তারাও জানান- ঈদের শপিং করতে এসেছি, বৈশাখের নয়। এক কথায় নগরীর দেশীয় বুটিক হাউসগুলোতে যদিও বৈশাখী পোশাকের সমাহার তবে ক্রেতামনে নেই কোনো আগ্রহ।

আর এ বৈশাখকে কেন্দ্র করে বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করতে বাঙালিপনায় শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়ার সাজে সেজে উঠে শহরবাসী। তাইতো দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বৈশাখের আগে শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের বেশ ভীড় হয়। জমে উঠে দেশীয় পোশাকের বিকিকিনি। প্রতিদিন বাঙালি যতই সাহেব বেশে থাকুক না কেন, বিশেষ দিনগুলোতে তাদেও ভেতরকার বাঙালিপনা ঠিকই জেগে উঠে। যার কারণে বছরের কিছু স্পেশাল দিনে বাঙালির কাছে দেশীয় পোশাকের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবারও দেশীয় পোশাক হাউসগুলোতে নেই ক্রেতা।

চট্টগ্রাম শাখার দেশীদশের এডমিন তারিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পয়লা বৈশাখ, বসন্ত, স্বাধীনতা-বিজয়-২১শে ফেব্রুয়ারির দিবসগুলোতে দেশীয় পোশাক কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছিল। তবে করোনার কারণে আমরা গেল বছরের ন্যায় এ বছরও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এ বছর শুধু বৈশাখ উপলক্ষেই আমরা চট্টগ্রাম শাখা প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছি। শুধু আমরাই নই, অন্যান্য হাউসগুলোও এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ মুহূর্তে দেশ করোনাভাইরাস নিয়ে কাটাচ্ছে এক উদ্বেগজনক সময়। কখনো বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে সকল শপিংমল আবার কখনো লকডাউন হচ্ছে সারা দেশ। এমন পরিস্থিতিতে ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এছাড়া এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে কঠোর লকডাউনে পড়ে বন্ধ হয়েছে বৈশাখী উৎসব।  এসব কারণে দেশীয় পোশাকের বাজার বেশ মন্দা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।