উত্তর চট্টগ্রামে এবার ৭৬৯টি পূজামণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গাপূজা


আপডেটের সময়ঃ অক্টোবর ২০, ২০২০


চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের অধীনে এবার ৭৬৯টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এ বছর মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এই ৭টি উপজেলা এবং ভুজপুর ও জোরারগঞ্জ থানাসহ সর্বমোট ৭৬৯টি পূজামণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা পরিষদের সভাপতি নটু কুমার ঘোষ, মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, উত্তর জেলা পূজা পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শংকর প্রসাদ দে, অমৃত লাল দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী, সহ-সভাপতি সমীর চন্দ্র পাল, গণপতি ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ত্রিদীপ সাহা, রূপক কান্তি দেব, লিপটন দেবনাথ লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দে, অর্থ সম্পাদক লিংকন তালুকদার, দক্ষিণ জেলা পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরিমল দেব, অ্যাডভোকেট সুমন কান্তি আচার্য্য, সত্যজিৎ দাশ, রনজিৎ চন্দ্র নাথ, বিকাশ নাথ ও সুমন কুমার দে প্রমুখ।

সংবার সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো-৭২’র সংবিধানের আলোকে সকল সম্প্রদায়ের সম অধিকার নিশ্চিত করা, হিন্দু সম্প্রদায়ের মঠ, মন্দির, ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, হামলা ভাঙচুরসহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের মানবতা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তির ব্যবস্থা করা, দুর্গোৎসবকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান এবং শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা, প্রায় তিন কোটি সনাতনী সমাজের অন্যতম দুঃখ সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারী বাতিলকৃত শুত্র“ (অর্পিত) সম্পত্তি আইন কার্যকর করে অবিলম্বে সম্পত্তি প্রকৃত ভূমি মালিকদের ফেরত দেওয়া, সেনা-বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ সকল সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরকে আনুপাতিকহারে নিয়োগ, সরকারি সংস্কৃত কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, বাংলাদেশে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডশনে উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম তীর্থভূমি সীতাকুণ্ডকে জাতীয় তীর্থস্থান ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দির ঘোষণা, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে রাজনীতি ও নির্বাচনে ধর্ম এবং সা¤প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধাম এর উন্নয়ন কক্সবাজার আদিনাথ মন্দিরকে সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের বেত কাঠামো বৈষম্যের অবসান এবং সব বিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া এবং শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সরকারি-বেসরকারি সকল প্রকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সররকার দেশ পরিচালনা করছে। তাই আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। তবে জবরদখল, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা এখনো ঘটে চলছে। তাই আমরা শঙ্কিত। এবার শারদোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তি শৃঙ্খলার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। তবে একটা শঙ্কা থেকে যায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছর প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। টহল পুলিশের মাধ্যমে পূজাকালীন সময় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেন পুলিশ ও আনসার সদস্যের অনুপস্থিতির সুযোগে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টির করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

পরিবার ও দেশকে সুস্থ রাখতে ঘরে থাকুন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। সৌজন্যেঃ দেশচিত্র ডটনেট।